মাত্র ক'টি দিন। তারপর আমলকীর বনে বনে কাঁপন শুরু হবে। রাতভর শিশিরে স্নান করবে ঘাসেরা। সীমাহীন নিঃসঙ্গতা নিয়ে ঝরে যাবে পাতা। কারও কারও বুকের মধ্যে হলুদ একটি পাতার দীর্ঘশ্বাস বয়ে বেড়াবে। প্রকৃতি আরও একটু রুক্ষ ও নির্জীব হতে শুরু করবে। ত্বক হয়ে যাবে নির্জীব ও রুক্ষ। হাত-পা লাবণ্য হারিয়ে ফাটতে শুরু করবে। অবশ্য এখনই ত্বকে টান শুরু হয়েছে। পুরোপুরি শীত নামার আগে থেকেই ত্বকের যত্ন বাড়ানো চাই। নয়তো সজীবতা হারিয়ে ত্বক কালচে হয়ে যাবে।

শীতে ত্বক সুস্থ রাখতে সবার প্রথমে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। আবহাওয়া বেশ রুক্ষ থাকে বলে ত্বকে এ সময়টায় বেশি পরিমাণে ময়েশ্চারাইজার দরকার হয় বলে জানান রাজিয়া'স মেকওভার স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী ও রূপবিশেষজ্ঞ রাজিয়া সুলতানা। তিনি দিয়েছেন আরও কিছু পরামর্শ।

সকালে যেমন যত্ন :ঘুম থেকে উঠে ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এই ঋতুতে ব্যবহারের উপযোগী আগের চেয়ে ভিন্ন ফেসওয়াশ বেছে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ত্বকের ধরন বুঝে চিকিৎসক কিংবা রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে ফেসওয়াশ বাছাই করতে হবে। মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ময়েশ্চারাইজার আছে। শুস্ক, তৈলাক্ত, মিশ্র ত্বক অনুসারে বেছে নিন ময়েশ্চারাইজার। অফিস কিংবা ক্লাসে গেলে বা অন্য কাজে বাইরে গেলে এসপিএফ ৫০+ যুক্ত সানস্ট্ক্রিন ক্রিম লাগাতে হবে। রোদে বের হলে সানস্ট্ক্রিন অবশ্যই লাগাতে হবে। শীতের রোদ খুব কড়া না হলেও ত্বকে এর প্রভাব বেশ কড়াভাবে পড়ে। এতে ত্বক পুড়ে যায়। আগের চেয়ে কালচে হয়ে যায়। সানপ্রটেকশন ব্যবহার করে, পাউডার লাগিয়ে খুব সহজে ত্বক প্রস্তুত করা যায়। চোখে কাজল আর ঠোঁটে লিপস্টিক বুলিয়ে নিলেই হবে। এভাবে বাইরে যাওয়া যায়।

শীতের দুপুরে :গৃহিণীরা মনে করেন, ঘরে থাকলে ত্বকের কোনো যত্নের দরকার হয় না। এটি ভুল ধারণা বলে মনে করেন রূপবিশেষজ্ঞ রাজিয়া সুলতানা। যাঁরা বাসায় থাকেন, রান্নাবান্না করেন তাঁরা দীর্ঘ সময় আগুনের তাপ সহ্য করেন। কোনো ধরনের সানস্ট্ক্রিন ব্যবহার করেন না। এতে ত্বক কালো হয়ে যায়। ত্বকের কালচে দাগ দূর করতে বাসায় অল্প সময়ে একটি ফেসপ্যাক বানিয়ে ব্যবহার করলে উপকার মিলবে। শুস্ক ত্বকের জন্য ডিমের কুসুমের সঙ্গে মেথির গুঁড়া পাউডার, চন্দনের গুঁড়া ও এক-দুই ফোঁটা মধু দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন। ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকে কালচে দাগ পড়ার আশঙ্কা থাকবে না। ফেসপ্যাক তোলার পর মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে এবং চুলার কাছে যাওয়ার আগে সানপ্রটেকশন ক্রিম লাগাতে হবে। যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত তাঁরা টমেটোর রসের সঙ্গে ময়দা অথবা চালের গুঁড়া ও মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সপ্তাহে দুইবার এই প্যাক ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

জারা'স বিউটি লাউঞ্জের স্বত্বাধিকারী ও রূপবিশেষজ্ঞ ফারহানা রুমি এ ঋতুতে ঘরোয়া যত্নে মধুকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মধুতে থাকা অ্যান্টিইনফ্ল্যামটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকে ব্রণজনিত কালো দাগ, ক্ষত এবং বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। ত্বক পুনর্গঠনে সাহায্য করে। ভিটামিন-সি বা অ্যাসকরবিক এসিড, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন থাকে। ফলে ত্বকের যে কোনো কারণে ক্ষতি হওয়া টিস্যুগুলোকে রিপেয়ার করে নতুন ত্বক পেতে সাহায্য করে মধু। মুখে মধু দিয়ে ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

রাতের যত্ন :বাইরে থেকে এসে মুখ স্ট্ক্রাব করতে হবে। এটি গৃহিণী, কর্মজীবী ও সব নারীর জন্য প্রযোজ্য। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার স্ট্ক্রাব করলে মুখের মরা চামড়া উঠে যাবে। ত্বক ভেতর থেকে পরিস্কার হবে। যাঁরা দিনের বেলা সময় পান না, তাঁরা রাতের বেলা ফেসপ্যাক তৈরি করতে পারেন। বাইরে যেসব রেডিমেড ফেসপ্যাক পাওয়া যায় সেগুলো বেছে নিতে পারেন। চারকোল, চন্দন, কমলার খোসার প্যাক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ফেসপ্যাক পাওয়া যায়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। যাঁদের ত্বক খুব বেশি শুস্ক, তাঁরা রাতে ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে অল্প করে গ্লিসারিন, ভ্যাসলিন মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন। এতে ত্বক কোমল থাকবে। এটি লাগাতে হবে বিছানায় যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে। যাঁদের ত্বক নরমাল, তাঁদের জন্য কোল্ড ক্রিম, সাধারণ ময়েশ্চারাইজারই যথেষ্ট।