গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের এজেন্টের অনিয়ম ইসি দেখেছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেছেন, বুথে ঢুকেছে, কোথাও কোথাও বাটন টিপে দিয়েছে। এগুলো দেখেছি। এগুলো তো একেবারেই অসত্য নয়। আইনে প্রার্থীদের লোক করা মানে তো প্রার্থীর করা। প্রার্থীর এজেন্ট মানেই প্রার্থী। একই তো কথা। প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের অপরাধ প্রার্থীর ওপর বর্তায়। 

আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আনিছুর রহমান বলেন, উপনির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত কমিটির দুটি প্রতিবেদনই ইসি হাতে পেয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেতন গ্রেড আপগ্রেড করা হচ্ছে। 'ক' শ্রেণির ২৩০টি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ নবম গ্রেড থেকে উন্নীত করে ৬ষ্ঠ গ্রেড করা হচ্ছে। এছাড়া বৃহত্তর ১৯টি জেলার মত দেশের সবগুলো জেলার নির্বাচন কর্মকর্তার পদটি পঞ্চম গ্রেডে উন্নীত করা হচ্ছে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক সংস্কার কমিটির এক বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন সভায় অনুমোদনের পর এই সুপারিশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রশাসনিক সংস্কার কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সুপারিশের বিষয়ে আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে ১৯টি বড় জেলায় উপসচিব পদমর্যাদার পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা আছে। বাকি ৪৫টি জেলায় রয়েছেন ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা। এতে বদলিসহ নানা ধরনের বিপত্তি হয়। এজন্য ১৯টির মতো বাকি ৪৫টি জেলায় পঞ্চম গ্রেডের পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে। যাতে সব জায়গায় একই গ্রেডের কর্মকর্তা থাকেন। এটা করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় একেবারেই থাকবে না বলে জানান তিনি। কেবল তাদের গ্রেডটি পরিবর্তন হবে।

উপজেলা কর্মকর্তাদের পদ আপগ্রেডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা ও থানা (বিভাগীয় শহরে) মিলে ৫২২টি পদ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার পদটি নবম গ্রেডের। ২৩০টি 'ক শ্রেণির' উপজেলার পদ ৬ষ্ঠ গ্রেডে করার সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ হবে। আর এই ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয় নেই বললেও চলে। কারণ, কর্মরত সকল কর্মকর্তাই ইতোমধ্যে ৬ষ্ঠ গ্রেডের বেশি বেতন স্কেল পাচ্ছেন।

পদ আপগ্রেডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসাররা ১৬/১৭ বছর একই পদে কাজ করছেন। তাদের কেউ কেউ জেলা নির্বাচন অফিসার হয়েছেন। কেউ আঞ্চলিক কর্মকর্তা হয়েছেন। যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন তাদের জন্য কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন পদ সৃষ্টির জন্য। কিছু পদ উন্নীতকরণের জন্য। একই পদে দীর্ঘদিন কাজ করলে কাজের স্পৃহা কমে যায়। এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের দাবিও ছিল। 

তিনি জানান, পদ আপগ্রেডের বিষয় নিয়ে তারা আগেও বৈঠক করেছিলেন। এসব সিদ্ধান্ত কমিশন সভায় অনুমোদন করে পদ সৃষ্টির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এদিকে নতুন সৃষ্টি করা সহকারী উপজেলা নির্বাচন অফিসারের পদে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পদের কিছু সরাসরি রিক্রুট হবে। আর বেশিরভাগ হবে পদোন্নতির মাধ্যমে। সেটার নিয়োগ বিধি ছিল না। খসড়া একটি নিয়োগ বিধি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর সেটা সচিব কমিটিতে যাবে। ওই কমিটি অনুমোদন দিলে পিএসসিতে সরাসরি নিয়োগের জন্য অনুরোধ করা হবে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পিএসসির কাছে আগেই সুপারিশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।