শীতকাল মানে পিঠাপুলি খাওয়ার উৎসব। আর পিঠাপুলি বানাতে গুড়ের প্রয়োজন। অন্য ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি তৈরিতেও গুড়ের ব্যবহার হয়। শীতকালের খেজুরের গুড়ের স্বাদ আর গন্ধে মন ভালো হয়ে যায়। এই সময়ে গুড় খেলে শরীরের উপরও নানা প্রভাব ফেলে।

গুড় মুলত আখ কিংবা খেজুরের রস থেকে প্রাপ্ত অপরিশোধিত চিনি। গুড় যেভাবে তৈরি করা হয় তা প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাদ দেয়। এটার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। বিশেষ করে, শীতকালে গুড় খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। গুড় শীতকালে শরীর গরম করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে এমন কিছু গুণ রয়েছে যার কারণে শীতকালের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই গুড় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এই সময় গুড় খেলে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ এবং প্রতিকারে গুড় একটি সক্রিয় উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এর কারণ হল গুড়ের মধ্যে এমন উপাদান রয়েছে যা শরীরকে যথেষ্ট উষ্ণতা দিতে সাহায্য করে । আদা, তুলসি পাতার সাথে গুড় খেলে গলা ব্যথা, মৌসুমি ফ্লু, সর্দি কাশি এবং জ্বর নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।

২. গুড় প্রাকৃতিকভাবে আয়রন, ফোলেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানে ভরপুর যা রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারে গুড় যোগ করলে রক্ত পরিষ্কার করতে এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতে ও কার্যকারিতা উন্নত করে গুড়।

৩. গুড়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে মিষ্টি হিসেবে গুড় খেতে পারেন কারণ এটি  পুষ্টিগুণে ভরপুর।

৪. শীতকালে অনেকেরই সর্দি কাশি, পেটের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে গুড় খেলে শ্বাসতন্ত্র, ফুসফুস, পাকস্থলী পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফলে শরীর সুস্থ থাকে।

৫. গুড়ে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য অস্থিসন্ধির ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে। প্রতিদিন গুড়, ঘি,আদা খাওয়া অস্থিসন্ধির ব্যথা নিরাময়ে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।

৬. স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ গুড় শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায় । এছাড়াও গুড়  ক্লান্তি এবং অন্যান্য দুর্বলতা রোধ করতে সাহায্য করে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া