শীতকাল সাধারণত ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময় হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘ ২ বছর পর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আবার চালু হওয়ায়, এ বছর বিদেশ ভ্রমণকারীর সংখ্যাও অনেক বেশি। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে ভিসা আবেদনের সংখ্যা আগের থেকে এখন প্রায় ১৬০ শতাংশ বেশি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুটা সময় কাটালেই বোঝা যায়, এই মৌসুমে পরিচিত কত শত মানুষ ঘোরাঘুরিতে মগ্ন আছেন। শীতকালে ভ্রমণকারীদের মধ্যে অনেকগুলো গন্তব্যই জনপ্রিয়। ভ্রমণকারীদের কথা মাথায় রেখে আমরা এমন পাঁচটি গন্তব্য খুঁজে বের করেছি যেখানে এই মৌসুমে ঘুরে না এলেই নয়।

থাইল্যান্ড

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শহরের হৈচৈ, সুস্বাদু খাবার- কি নেই থাইল্যান্ডে? দেশটি ঐতিহ্যসমৃদ্ধ, আবার আধুনিকতার দিক থেকেও শীর্ষে। প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ পর্যটক ভিড় করেন এই দেশে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের আলোকিত জীবনধারা, ফুকেতের শান্ত সৌন্দর্য কিংবা ফি ফি দ্বীপের স্বচ্ছ নীল পানি- দেশটির এক একটি কোনায় আছে এমনি এক একটি ভিন্নধরনের মাধুর্য। ব্যাংককে আধুনিক ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, নাইটলাইফ যেমন আছে, তেমনি আছে প্রাচীনকালের মন্দির, প্রাসাদ ইত্যাদিও দেখা যায়। তাছাড়াও কোঁ সামুই, চিয়াং রাই, চিয়াং মাই, ক্রাবি ইত্যাদি জায়গাগুলো ঘুরার জন্য খুবই জনপ্রিয়। 

বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড যাওয়া তুলনামুলকভাবে কম খরচের বিষয়। এছাড়া দেশটিতে পর্যটন অনেক এগিয়ে থাকার কারণে অল্প টাকায় খুব সুন্দর কিছু থাকার জায়গা পাওয়া যায়। দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ এখানে বেশ কম। তাই সুযোগ সুবিধাগুলো মিলিয়ে এই মৌসুমে থাইল্যান্ড ঘুরে আসাটা বেশ লোভনীয়।

নেপাল 

হিমালয়ের দেশ নেপালের সৌন্দর্যের তুলনা আর কোন দেশের সঙ্গে হয় না। দেশটির রাজধানী থেকেই দেখা যায় সুবিশাল হিমালয় পরবতমালার ঐশ্বর্য। নেপাল দেশটি পরিচিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রোমাঞ্চকর অ্যাক্টিভিটির জন্য। অনেকেই এখানে হিমালয় পর্বতমালার বিভিন্ন অংশে ট্র্যাকিং করার উদ্দেশ্যে আসেন। এছাড়াও এখানে আছে বাঞ্জি জাম্পিং, রিভার র্যাফটিং, পর্বতে মাউন্টেন বাইক চালানো ইত্যাদি অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ। 

তবে শুধু পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করতে চাইলেও বেশ কিছু বিকল্প আছে। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত কিছু সুন্দর সুন্দর রিসোর্টে বসেই কাটিয়ে দেওয়া যায় ছুটির কয়েকটা দিন। তুলনামূলকভাবে দেশটিতে থাকা খাওয়ার খরচ কম। স্থানীয় মানুষজনের আতিথেয়তার জন্যও নেপাল বেশ সুপরিচিত। 

বাংলাদেশ থেকে নেপাল বেশ কাছেই অবস্থিত। এমনকি একটু বেশি সময় হাতে থাকলে সড়কপথেই এই দেশটিতে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। ফ্লাইটে গেলেও খরচটা সাধ্যের মাঝেই এনে ফেলা যায়। এসব সুবিধা মিলিয়ে অনেকেই চান ছুটির দিনগুলো নেপালে কাটিয়ে আসতে। 

মালদ্বীপ 

দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপকে সাধারণত একটু বিলাসবহুল গন্তব্য হিসেবে গোনা হয়। তবে বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যাওয়ার ফ্লাইট খরচ খুব একটা বেশি নয়। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে মালদ্বীপের মত স্বচ্ছ পানি আর কোথাও নেই। তাই জীবনে একবার হলেও দেশটি ঘুরে আসা উচিত।

মালদ্বীপের পানিই শুধুমাত্র বৈচিত্র্যময় নয়, এখানে আছে অদ্ভুত সব সামুদ্রিক প্রাণীর সমাহার। রংবেরঙের মাছ দেখতে সমুদ্রের মাঝে যাওয়ারও কোন প্রয়োজন নেই, সমুদ্রের পাঁড়েই সাতার কাটে নার্স হাঙ্গর, স্টিং রে, রঙ্গিন মাছ ইত্যাদি। 

মালদ্বীপ কম খরচে ঘুরতে চাইলে ব্যয়বহুল রিসোর্টগুলোর বদলে দেখে নিতে পারেন স্থানীয় দ্বীপের হোটেলগুলো। খুব অল্প খরচের মাঝেই এখানে পাবেন বীচের পাশে থাকার ব্যবস্থা, আবার নীল পানির মনোরম দৃশ্যও।

ভারত

আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ভ্রমণের জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশাল এই দেশের এক এক প্রান্তে এক এক ধরনের সৌন্দর্য পাওয়া যায়। কলকাতা, দার্জিলিং, মানালি- এসব এলাকায় সড়কপথেই যাওয়া সম্ভব। এর ফলে খরচ কমে যায়। আবার কাশ্মীর, দিল্লী, আগ্রা, রাজস্থান ইত্যাদি জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনাও থাকে অনেকের। এক্ষেত্রে ফ্লাইট অথবা ট্রেনে ভ্রমণ করা যায়। 

অনেকেই খরচ কম হওয়ার কারণে ভারত যেতে পছন্দ করেন। এছাড়া দেশটির রঙিন সংস্কৃতি এবং পুরাতন ঐতিহ্য পর্যটকদের কাছে ভারতকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দেশটির খাবারও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। শুধু তাই নয়, কেনাকাটার জন্যও বিখ্যাত ভারত।

দুবাই 

দুবাইয়ে আধুনিক জীবনযাত্রা এবং প্রাচীন ঐতিহ্য দুটোই রয়েছে। সব মিলিয়ে দুবাইয়ের আকর্ষণ অতুলনীয়। দুবাই শহরটি মরুভূমিকে পাশে রেখে গড়ে উঠেছিল। আজ সেই মরুভূমিই হয়ে উঠেছে পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। মরুভূমিতে জীপ গাড়ির সাফারি দুবাইতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্যুরগুলোর মাঝে একটি। 

শহরের মধ্যেও ঘুরে দেখার মত অনেক জায়গা রয়েছে। দুবাই শহরের মতো স্থাপত্যের নিদর্শন পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া বিরল। এখানে আরও আছে বিরল কিছু কৃত্রিম দ্বীপ। বিচিত্র আকারে তৈরি দ্বীপগুলো পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতার বিল্ডিং- বুরজ খালিফার অবস্থান দুবাইয়ে। দুবাই ভ্রমণের সময় ১৬৩ তলাবিশিষ্ট ভবনটি অনেকেই ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়া আধুনিক শহরটিতে রয়েছে বিভিন্ন মিউজিয়াম, স্বর্ণের দোকান, বিচিত্র বাগান। 

ভ্রমণের সময় পরিকল্পনাটাই সবচেয়ে বড় কাজ। এই পরিকল্পনাটা ঝামেলাহীনভাবে করতে দেখে নিতে পারেন গোযায়ান-এর মাধ্যমে। এতে ফ্লাইট, হোটেল, ট্যুর সবধরনের সুবিধা একজায়গায় পেয়ে যাবেন। এছাড়া গোযায়ান-এ জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর আলাদা আলাদা ট্যুর প্যাকেজ রয়েছে। তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চাইলে সম্পূর্ণ অনলাইনেই নিজের পছন্দমত ট্যুর সাজিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাবেন।