কোরিয়ার নারীরা ত্বকের যত্নে কী করেন, তাঁদের ত্বক পরিচর্যার রুটিনে কী থাকে, তা জানতে চান অনেকেই। কোরিয়ান স্কিন কেয়ার রুটিন মানলে যে কেউ পেয়ে যাবেন উজ্জ্বল ও দাগবিহীন সতেজ ত্বক। লিখেছেন নাজমুন নাহার সুলতানা

সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পেতে কোরিয়ানরা মেনে চলেন স্কিন কেয়ারের ১০টি ধাপ। ধাপগুলো প্রতিদিন মেনে চলা সময়সাপেক্ষ। তবে উপকারী। কোরিয়ার নারীরা সকাল-বিকেলে ভিন্নভাবে ত্বকের পরিচর্যা করেন।

সকালের আটটি ধাপ
বিশুদ্ধ পানি দিয়ে মুখ ধোয়া:কোরিয়ান স্কিন কেয়ার রুটিন অনুযায়ী ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিন। ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন না। বিশুদ্ধ পানি আপনার ত্বককে শুধু পুনরুজ্জীবিতই করবে না, সব ধরনের জীবাণু থেকে মুক্ত রাখবে।

টোনারের ব্যবহার :মুখ ধোয়ার পর একটি কটন প্যাডে পরিমাণমতো টোনার ঢেলে নিন। সার্কুলার মোশনে মুখে ট্যাব করুন অথবা কয়েক ফোঁটা টোনার হাতের তালুতে নিন এবং আলতোভাবে সম্পূর্ণ মুখে ট্যাব করে লাগান। টোনার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখে।

এসেন্স :এসেন্স হচ্ছে সিরাম, টোনার ও ময়েশ্চারাইজারের সম্মিলিত রূপ। কোরিয়ান স্কিন কেয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা আপনার স্কিনকে করবে সতেজ ও প্রাণবন্ত। হাতের তালুতে অল্প পরিমাণে এসেন্স নিন এবং আলতো করে সম্পূর্ণ মুখে ট্যাব করে লাগান।

এম্পুলের ব্যবহার :এম্পুল কিছুটা এসেন্স ও সিরামের মতোই। যদিও একই, তবে এর উপাদানে রয়েছে ভিন্নতা। এম্পুলে রয়েছে কার্যকর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যেমন- জিঙ্ক, নিয়াসিনামাইড, ভিটামিন ই, সি ইত্যাদি। ড্রপার দিয়ে কয়েক ফোঁটা মুখের ওপর ট্যাব করে লাগাতে হয়। কয়েক ফোঁটা এম্পুল ফেসে দিয়ে আঙুলের সাহায্যে ট্যাব করে আলতোভাবে সম্পূর্ণ মুখে লাগান।

সিরাম: সিরাম অ্যান্টি-এইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী। এটি আপনার ত্বকের ড্রাইনেস, হাইপারপিগমেন্টেশন, ফাইন লাইন ও রিংকেল দূর করবে। দুই ফোঁটা সিরাম নিন, সম্পূর্ণ মুখে আলতোভাবে লাগান।

আইক্রিম :খুব ভালো একটি আইক্রিম ব্যবহার করুন, যেন এটি চোখের চারপাশের ত্বককে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখে। অল্প একটু আইক্রিম হাতে নিয়ে চোখের চারপাশে আলতো করে ব্যবহার করুন।

ময়েশ্চারাইজার :আইক্রিম দেওয়ার পর আপনার ত্বক অনুযায়ী একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। আপনার যদি অয়েলি স্কিন হয়, তাহলে ওয়াটার বেজড ময়েশ্চারাইজার আপনার জন্য উপযুক্ত। যদি আপনার স্কিন ড্রাই হয়, সে ক্ষেত্রে ক্রিম বেজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ভালো ফল পাবেন।
সানস্ট্ক্রিন :সূর্যের আলোতে থাকে ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি, যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই ওপরের সব ধাপ পূরণ করা হয়ে গেলে একটি সানস্ট্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সানস্ট্ক্রিনটি যেন অন্তত এসপিএফ ৩০+ হয়। সানস্ট্ক্রিন ডার্ক স্পট, ত্বকে টান পড়া, সানবার্ন, ফাইন লাইন থেকে ত্বককে বিশেষভাবে মুক্ত রাখে।

ঘুমানোর আগে পরিচর্যা
ক্লিনজিং অয়েল :রাতে ত্বক পরিস্কার করে ঘুমাতে যেতে হবে। ক্লিনজিং অয়েল আপনার ত্বকের গভীর থেকে ধুলা-ময়লা পরিস্কার করতে সাহায্য করে। অল্প পরিমাণে ক্লিনজিং অয়েল কটন প্যাডে নিয়ে সম্পূর্ণ মুখে ম্যাসাজ করুন। এর পর ভেজা কটন প্যাড দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন।

ডাবল ক্লিনজিং :ক্লিনজিং অয়েল ব্যবহারের পর একটি মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে আবারও মুখ ধুয়ে নিন। এর নাম ডাবল ক্লিনজিং। অতিরিক্ত মেকআপ রিমুভ করতে ডাবল ক্লিনজিং করা জরুরি। এতে ত্বক গভীরভাবে পরিস্কার হয়ে সব কেমিক্যাল দূর হয়ে যাবে।

এক্সফলিয়েশন :এ স্টেপ সপ্তাহে দু'বারের বেশি করা উচিত নয়। এক্সফলিয়েশন ত্বকের ডেড সেল দূর করে গভীর থেকে পরিস্কার করতে সাহায্য করে। এটি আপনার আনইভেন স্কিন টোনকে ইভেন টোন করতে দারুণভাবে কাজ করে। আপনি এনজাইম অথবা কেমিক্যাল বেজড যে কোনো ফিজিক্যাল এক্সফলিয়েটর ব্যবহার করতে পারেন। পরবর্তী ধাপে মর্নিং কেয়ারের মতোই ক্রমান্বয়ে টোনার, এসেন্স, এম্পুল ও সিরাম ব্যবহার করুন।

শিট মাস্ক :কোরিয়ান বিউটিশিয়ানদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় শিট মাস্ক। শিট মাস্কে থাকে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড সিরাম ও অ্যাক্টিভ এজেন্টস। যা স্কিনকে ময়েশ্চারাইজ করার সঙ্গে সঙ্গে রিপেয়ার করতেও সাহায্য করে। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী।

আইক্রিম :সারাদিনের ধকলের পর পরিমিত ঘুম আপনার চোখের জন্য খুবই জরুরি। সেই সঙ্গে চোখের চারপাশের সংবেদনশীল অংশের যত্নে ব্যবহার করুন আইক্রিম।

ময়েশ্চারাইজার : সব শেষে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এতে যত উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভালোভাবে ত্বক শুষে নেবে। ভোরে আপনি পাবেন নরম, উজ্জ্বল ও সতেজ ত্বক। 
মডেল :আনিকা মীম
ছবি :রফিকুল ইসলাম রাফ