চা দৈনন্দিন খাবারেরই একটি অংশ। চা মূলত তিন ভাগে বিভক্ত। ব্ল্যাক টি, গ্রিন টি এবং হোয়াইট টি। তবে সব চা- এক ধরনের গাছ থেকেই আসে। কী পদ্ধতিতে সেগুলির প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে, তার উপর ভিত্তি করে নাম বদলে যায়।   

প্রতিটি চায়ের আলাদা আলাদা স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। যেমন-

ব্ল্যাক টি: চার ধাপের মাধ্যমে ব্ল্যাক টি প্রক্রিয়াজাত করা হয়। সব ধরনের চায়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যাফেইন পাওয়া যায় এই চায়ে। ফলে তাৎক্ষণিক শক্তিও পাওয়া যায় এই চা থেকেই। এছাড়াও আরও একাধিক সুবিধা রয়েছে এই চায়ের। কোলেস্টেরল কমাতে, হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে এই চা। ব্ল্যাক টিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, একাধিক পলিফেলনিক যৌগ পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন,ব্ল্যাক টি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকিও কমে যায় ।
 
গ্রিন টি: গ্রিন টি তৈরির প্রক্রিয়াতে অক্সিডাইজেশন হয় না। তোলার পরে হালকা আঁচে শুকনো হয় শুধু। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর এই চা যে কোনও ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহের সমস্য়া থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের সচলতা রুখতে এবং মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সাহায্য করে গ্রিন টি-এর পুষ্টিগুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রি টি-তে ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং ফেলোনিক অ্য়াসিড রয়েছে। এতে থাকা পলিফেলন যৌগ থাকে ব্যাকটেরিয়ানাশক হিসেবে কাজ করে। সংক্রমণ ঠেকাতেও সাহায্য করে টি গ্রি। এর ফলে মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়।

হোয়াইট টি: এর প্রক্রিয়াকরণও ব্ল্যাক টির-তুলনায় অনেকটাই কম। সামান্য অক্সিডাইজেশন হয় এই চা তৈরির সময়। এই চা তৈরিরর সময় পাতা ভাঁজ করা বা গুঁড়া করা হয় না। হোয়াইট টি তৈরির সময় পানি গরম করা হয় ঠিকই কিন্তু তা ফুটন্ত অবস্থায় থাকে না। ১-৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখা হয়। তার বেশি ভেজালে বা বেশি গরম পানি হলে তেতো হয়ে যায় এই চা। এই চায়ের একাধিক উপকারিতা হয়েছে । বিশেষ করে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে হোয়াইট টি। ক্যানসার-বিরোধী নানা উপকারিতা হয়েছে এই চায়ের। এই চায়ে থাকা ক্যাটেসিন নামের পলিফেলন প্রদাহ রুখতে বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করে।  সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস