অনেকেই পার্লারে গিয়ে ঘন ঘন ওয়াক্সিং করান। এতে টাকা তো খরচ হয়ই, পাশাপাশি বারবার ওয়াক্সিংয়ে ত্বক কুঁচকে গিয়ে ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।

রূপ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৌসুমে যদি রোম তুলতেই হয়, সে ক্ষেত্রে ওয়াক্স করার আগে এবং পরে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সেক্ষেত্রে ঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়ে ওয়াক্সিং করাতে পারেন।


বাড়িতে ওয়াক্সিং তৈরির জন্য যা যা প্রয়োজন:

১ কাপ ব্রাউন সুগার
২ টেবিলচামচ পাতিলেবুর রস
১ টেবিলচামচ পানি
রান্নার গভীর পাত্র
ওয়ক্সিং করার উপযোগী টিস্যু পেপার

পদ্ধতি:
পাত্র আঁচে বসিয়ে প্রথমে ব্রাউন সুগার দিন। তার পর লেবুর রস আর পানি দিন।
খুব কম আঁচে বসিয়ে রাখুন। মিশ্রণটা ফুটতে শুরু করলে নেড়ে দিন আর আঁচও বাড়ান।
আঁচ কমিয়ে দিন। মিশ্রণটায় ধীরে ধীরে সোনালি রং ধরবে। এক চা চামচ মিশ্রণ তুলে অল্প ঠান্ডা করুন।
মধুর চেয়ে একটু ঘন হলে ভালো কাজ হবে।
পাত্রে ঢেলে নিন, আধ ঘণ্টা পর ব্যবহার করতে পারবেন। প্রয়োজনে তখন আর একটু গরম করে নিতে পারেন।

ব্যবহারের নিয়ম:


ওয়াক্স যেহেতু গরম থাকে, তাই খুব নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন কোনও জায়গায় তা রেখে তারপর কাজ শুরু করা উচিত। ওয়াক্স গায়ে লাগানোর জন্য একটা অ্যাপ্লিকেটর লাগবে। স্টিলের চামচ বা বাটার নাইফ দিয়ে কাজটা সেরে ফেলার চেষ্টা করবেন না, কারণ স্টিলের জিনিস খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়। শরীরের যেদিকে রোম বড় হয়, সেদিক বরাবর ওয়্যাক্স লাগাতে হবে। তার পর ওয়্যাক্স টিস্যু নিয়ে তার উপর চেপে বসিয়ে দিন। হেয়ার গ্রোথের উল্টোদিকে টেনে আস্তে আস্তে টিস্যুটা তুলতে হবে। ওয়াক্স করার পর প্রথমে একটা নরম কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে মুছে নিন। তার পর ঠান্ডা পানিতে ডোবানো কাপড় নিংড়ে মুছে নেবেন আলতো হাতে। স্বাভাবিকভাবে শরীরটা শুকনো হতে দিন। কোনও জায়গা লালচে হয়ে গেলে বরফ ঘষুন।

ওয়াক্স করার পর কোন কোন নিয়ম মানবেন:

১.ওয়াক্স করেই রোদ্রে বের হওয়া ঠিক নয়।  এতে সান ট্যান হতে পারে, রোদে ত্বকের রং জ্বলে যাওয়াও বিচিত্র নয়।

২. ওয়াক্স করার সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

৩. ওয়াক্সিংয়ের ফলে ত্বক সব মৃত কোষ থেকে মুক্তি পায়, এ কারণে তখনই আর এক্সফোলিয়েট করার দরকার নেই। তাতে ত্বকে খুব আঘাত লাগবে।

৪.  ওয়াক্সিংয়ের পর ভারী ক্রিম ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। তাই ওয়াক্সিংয়ের পর পরই তা ব্যবহার করার কোনও প্রয়োজন নেই।

৫. ভুলেও পুরোনো কাপড় বা জিনসের টুকরো দিয়ে ওয়াক্স করবেন না। তা কখনওই পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না, এতে সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়। ডিসপোজ়েবল স্ট্রিপ ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।