চুল ঘন কালো হোক কিংবা রঙিন– যত্ন নিতে হবে। অযত্নের কারণে সহজেই চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিউটিকল হলো চুলের সবচেয়ে উপরিভাগের আবরণ। এই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ধীরে ধীরে পুরো চুল ভাঁজে ভাঁজে নষ্ট হয়ে যায়। আগা ফেটে ঝরে যায় চুল।
শিওর সেল মেডিকেলের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন জানান, বিভিন্ন কারণে কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কিংবা অন্য কোনো সমুদ্রসৈকতে গিয়ে নোনাপানিতে স্নান করলে চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। কেননা নোনাপানি চুলবান্ধব নয়। সূর্যরশ্মি থেকে কিংবা পরিবেশগত কারণে চুলের ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা হাওয়াও চুলের জন্য ক্ষতিকর। গোসলের সময় যদি খুব ঠান্ডা বা খুব গরম পানি দেওয়া হয়, তাহলেও কিউটিকলের ক্ষতি হয়। আবার চুলে শ্যাম্পু করা, চুল আঁচড়ানো, তোয়ালে দিয়ে চুল মোছা ইত্যাদি সাধারণ যত্নেও অধিকাংশ মানুষ ভুল করেন। কিউটিকল ভালো রাখতে চুলের যত্নের কিছু সঠিক নিয়ম জানতে হবে। চুল আঁচড়ানো থেকে শুরু করে শ্যাম্পু করা, চুল শুকানো ইত্যাদি ক্ষেত্রে মানতে হবে সতর্কতা।
চুল আঁচড়ানো: চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চুলের ধরন অনুযায়ী চিরুনি ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত চিকিৎসকরা অল্প ওজনের মোটা দাঁতের কাঠের চিরুনি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। কেননা, চিকন দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে ঘর্ষণের কারণে চুলের উপরিভাগের লেয়ারের ক্ষতি হয়।  
শ্যাম্পু করা: সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলেও অনেক সময় চুলের কিউটিকলের ক্ষতি হয়। তাই ময়েশ্চারাইজড ও নারিশিং শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু নির্বাচন করা শ্রেয়।
চুল শুকানো: রূপ বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার বা চুলের স্টাইলিংয়ের জন্য যেসব পণ্য ব্যবহার করা হয়, সেগুলো কিউটিকলের ক্ষতি করে। চুল স্ট্রেইট ও কালার করলে চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সফট ও মাইক্রোফাইবার যুক্ত তোয়ালে ছাড়া যদি চুল মোছা হয় তাহলেও কিউটিকল ড্যামেজ হয়। তাই চুল ভালো রাখতে হেয়ার স্টাইলিং পণ্যের ব্যবহার কমাতে হবে। মাইক্রোফাইবারযুক্ত তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে।
চুলে কালার করলে যে ডাই ব্যবহার করা হয়, সে ডাইয়ের কারণেও চুলের উপরিভাগের ক্ষতি হয়। চুলে স্ট্রেইট, পার্ম করলে সেখানে যে ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, সেসব কেমিক্যালের কারণেও চুলের ক্ষতি হয়।
এ তো গেল বাহ্যিক কারণ। অভ্যন্তরীণ কারণেও চুল হারায় তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। ডা. ইরিন জানান, খাদ্যতালিকায় যদি পুষ্টির পরিমাণ ঠিক না থাকে, প্রোটিনের অভাব থাকে তাহলে চুল দুর্বল হয়ে যায়। অপুষ্টির কারণে চুলের ফলিকল তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। স্ক্যাল্পে কোনো ধরনের চর্মরোগ থাকলেও চুলের আবরণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত চুলের তারুণ্য ফেরাতে: কিউটিকলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের তারুণ্য ফেরাতে কিছু বিষয় মানতে হবে। প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাবার, রঙিন শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখতে হবে। এগুলো চুলকে ময়েশ্চারাইজ রাখবে, চুলে পুষ্টি জোগাবে।
চুলের যত্ন: ডা. ইরিন জানান, কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুল তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। কারণ চুলের পোর খুলে যায়। চুল ময়েশ্চারাইজ রাখতে মাইল্ড ক্লিনজার, হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। কন্ডিশনার, মাস্ক ব্যবহার ছাড়াও চুলে তেল মালিশের মাধ্যমে কিউটিকলের সৌন্দর্য ফেরানো যায়।
চুল সতেজ রাখতে আমন্ড-জোজোবা-ক্যাস্টর অয়েল মালিশ করা যেতে পারে। সাধারণত তেল দুই ধরনের হয়। যেমন ক্যারিয়ার অয়েল ও এসেনশিয়াল অয়েল। ক্যারিয়ার অয়েল যেমন– নারকেল তেল, আমন্ড তেল সরাসরি চুলে দেওয়া যায়। এসেনশিয়াল অয়েল (যেমন ক্যাস্টর অয়েল) ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হয়। চুলে সুন্দরভাবে ম্যাসাজ করে, আঁচড়ে শ্যাম্পু করে ফেললে চুল সুন্দর থাকে। কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের গোড়ার এক ইঞ্চি দূরে থেকে ব্যবহার করতে হবে। হেয়ার প্যাক বা মাস্ক চুলের গোড়াসহ পুরো চুলে ব্যবহার করে ২০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন। নিম, কোকোনাট অয়েল বা কোকোনাট মিল্ক মাস্ক চুলের জন্য ভালো। কোকোনাট মিল্ক মাস্ক চুলের আগা ফাটা রোধ করবে, কিউটিকল ভালো রাখবে। অলিভ অয়েল, পাকা কলার মাস্ক ব্যবহার করলেও চুল ভালো থাকবে। v

মডেল: কেয়া পায়েল
ছবি: সংগৃহীত