ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

অ্যাপেই ঘরের খাবার

অ্যাপেই ঘরের খাবার

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ১৩:৩১

মায়ের হাতের রান্না কিংবা বাড়ির খাবার বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুস্বাদু, সুঘ্রাণ, আর সহজপাচ্য কিছু খাবারের পদ। দেখতে হয়তো অতি সাধারণ, কিন্তু এই‌ ‘হোমমেইড’ খাবার খেয়ে চিরায়ত বাঙালি মন যে পরিতৃপ্তি পায়, তার সাথে আর কিছুর তুলনা হয় না। পাতলা ডাল, পটলের দোলমা, ঘন ঝোলের মাছ, ডিম ভুনা, রিমঝিম বৃষ্টির দিনে ডিম ভাজা আর ধোঁয়া-ওঠা খিচুড়ি, সন্ধ্যার আড্ডায় বাঁধাকপির পাকোড়া… জিভে জল আনতে খুব বেশি কিছু আমাদের চাই কি?

নবনী অর্ষা। থাকেন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। বিবিএতে পড়ছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। নতুন পদ, স্বাদ আর খাবার নিয়ে তার অসীম আগ্রহ। বাহারি পদ চেখে দেখতে তিনি ছুটে বেড়ান। কথা হলো তার সাথে। জানালেন, নতুন খাবারের অভিজ্ঞতা নেওয়াই তার শখ। তবে ঘরোয়া খাবার খেতে ভালোবাসেন সবথেকে বেশি। বাড়ির বাইরে থাকায় এখন ঘরে বানানো খাবার নিয়ে তার স্মৃতিকাতরতা একটু বেশিই। তার ভাষায়, ঘরে বানানো মায়েদের খাবারে ‘ভালোবাসা’, ‘মমতা’ নামে বাড়তি কিছু মসলার মিশ্রণ থাকে। তাই সেই খাবারের স্বাদ হয় অতুলনীয়। পরিবার ছেড়ে বাইরে থাকায় মায়ের হাতে বানানো ঘরের খাবারের সেই স্বাদ তিনি খুঁজেন। ঘরে বানানো খাবার খাওয়ার ইচ্ছা মেটাতে নবনীর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ। জানালেন, হোমশেফদের বানানো খাবারে পাওয়া যায় বাড়ির খাবারের স্বাদ ও তৃপ্তি। ফুড ডেলিভারি অ্যাপে এখন হোমশেফদের তৈরি খাবার কিনতে পাওয়া যায়। এই হোমশেফদের কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। তারা ঘরে বসেই ঘরে তৈরি খাবার অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করেন।

গুলশানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আশফাক ইসলাম। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই কর্মজীবী হওয়ায় অফিসের দিনগুলোতে প্রায়ই বাসায় রান্নার সময় বা সুযোগ মেলে না। তখন অনলাইনেই খাবার অর্ডার করেন। এক্ষেত্রে তার পছন্দ ঘরোয়া রান্না। জানালেন, মাঝে মাঝেই ফুডপ্যান্ডায় হোমশেফদের খাবার অর্ডার করেন। মেলে ঘরে বানানো খাবারের মতোই স্বাদ।

মূলত যেসকল উদ্যোক্তা বাসায় রান্না করে ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার বিক্রি করেন তারাই হোমশেফ। তাদের কিচেনে মেলে ভাত, বিভিন্ন প্রকার ভর্তা, আর মাছ-মাংসের আইটেম। তাদের আয়োজন সাধারণ, তবে মোটেই সাদামাটা নয়। বরং সাধ্যের মধ্যে পেটভরে খেতে চাইছেন এমন গ্রাহকদের জন্য এই হোম শেফ’রা রীতিমতো আশীর্বাদ। বাড়ির খাবারের স্বাদ পেতে এখন অনেকেই নিয়মিত অর্ডার করছেন হোমশেফদের এই ঘরোয়া খাবার। সালমা ইসলাম কাজ করেন হোমশেফ হিসেবে। ঘরে বসে ফুডপ্যান্ডা অ্যাপের মাধ্যমেই বিক্রি করেন খাবার। জানালেন, আমরা বাড়িতে যেসব খাবার খেতে পছন্দ করি সেসব পদই অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করি। মানুষ এ ধরণের হালকা খাবার খেতেও ভালোবাসেন। ভর্তা, ভাজি, সবজি আর নানা ধরণের মাছ অর্ডার করতে পারেন ক্রেতারা। সাধারণত দুপুর আর রাতে বেশি অর্ডার আসে।    

অ্যাপে বিক্রি করা ঘরের খাবারের চাহিদা কেমন আর কারা কীভাবে হোমশেফ হিসেবে খাবার বিক্রি করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কথা হলো অ্যাপভিত্তিক ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ফুডপ্যান্ডার হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস জাহেদুল ইসলামের সাথে। তিনি জানালেন, যেসব উদ্যোক্তা ঘরে বসে তাদের তৈরি খাবার বিক্রি করতেন তাদের উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে আমরা হোমশেফ নামে একটি সেকশন চালু করেছি। যার ফলে হোমশেফরা আমাদের অ্যাপের মাধ্যমে তাদের ঘরে তৈরি খাবার বিক্রি করতে পারেন।  হোমশেফ হিসেবে ফুডপ্যান্ডায় যেসব উদ্যোক্তা কাজ করছেন তাদের অধিকাংশই নারী। হোমশেফদের তৈরি খাবারের চাহিদাও এখন বাড়ছে।

আরও পড়ুন

×