মুজিববর্ষে দেশের প্রতিটি থানায় একটি গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ এবং নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক স্থাপনের মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

অনুষ্ঠানে রাজারবাগ প্রান্তে পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্স, পীরগঞ্জ থানা ও মাগুরা সদর থানা সরাসরি অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবে। এছাড়া পুলিশের সব থানা ও সব পুলিশ লাইন্স প্রান্ত ওয়ানওয়ে সংযুক্ত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করবে।

পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) মো. কামরুজ্জামান সমকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে ঘোষণা করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না’। প্রধানমন্ত্রীর এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করেছে পুলিশ। এ কর্মসূচির আওতায় ৫১৯টি থানায় ৫২০টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোববার ৪০০ ঘর হস্তান্তর করা হচ্ছে। ৪১৫ বর্গফুট আয়তনের দৃষ্টিনন্দন প্রতিটি ঘর পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তৈরি। গৃহহীন পরিবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা, প্রতিবন্ধী ও উপার্জনে অক্ষম, অতিবৃদ্ধ ও পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্য নেই এমন পরিবার অথবা অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, মুজিববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে বছরব্যাপী নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল পুলিশ। করোনা মহামারির কারণে সেসব পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় কিছু অর্থ বেঁচে যায়। সেই অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন কার্যক্রমে শামিল হয় বাংলাদেশ পুলিশ।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি থানায় স্থাপন করা হয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক। দেশের ৬৫৯টি থানায় একটি বিশেষ কক্ষ নির্মাণ অথবা প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে। সার্ভিস ডেস্ক পরিচালনার জন্য একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছে। সার্ভিস ডেস্ক কর্মকর্তা থানায় যাওয়া নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সমস্যা মনোযোগ সহকারে শুনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে থাকে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে মুজিববর্ষের সূচনালগ্ন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ সার্ভিস ডেস্ক চালু করা হয়। এ পর্যন্ত এক লাখ ৮১ হাজার ৪৭৬ জন নারী, ৩২ হাজার ২৮৬ জন শিশু, এক লাখ ৩৮ হাজার ৩২৫ জন পুরুষ এবং ১১ হাজার ৮১ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অর্থাৎ মোট তিন লাখ ৬৩ হাজার ১৬৮ জনকেসেবা দেওয়া হয়েছে।