‘বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিযোগিতাও কম নয়’

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৯      

বিনোদন প্রতিবেদক

কুমার বিশ্বজিৎ

কুমার বিশ্বজিৎ। তারকা কণ্ঠশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক। এবার ঈদে নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি বিটিভির একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ঈদ আয়োজন, সঙ্গীতাঙ্গনের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য বিষয়ে কথায় হয় তার সঙ্গে-

প্রতি উৎসবে শ্রোতাদের কিছু না কিছু প্রত্যাশা থাকে। তাদের প্রত্যাশা পূরণে ঈদে কোনো আয়োজন করছেন?

কোনো উপলক্ষ মাথায় রেখে গান করি না। যা কিছু করি তা আলাদা করে সময় নিয়ে করার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখা যায়- ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসব বা দিবসকে ঘিরে শ্রোতার কিছু না কিছু প্রত্যাশা থাকে। এ জন্য যে কাজগুলো করি, তা প্রকাশের জন্য উৎসব বা দিবসকে বেছে নিই। এই ঈদে ভক্ত-শ্রোতার জন্য বিটিভির একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। স্বাগতার উপস্থাপনায় 'স্বপ্নে বিভোর সারাক্ষণ' নামের এ সঙ্গীতায়োজনে থাকছে 'ওলটপালট', 'ছোট ছোট আশা', 'দরদীয়া', 'আমার তুমি ছাড়া কেউ নেই আর', মেঘলা মেয়ে', 'যদি তোমার আগে', 'সুখ ছাড়া দুঃখ' গানগুলো। এর পাশাপাশি থাকছে জবান আলীর শাহর লোক ঘরানার গান 'রস কইয়া বিষ খাওয়াইলা'। এই গানটির আলাদা মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে। 

জবান আলী শাহর 'রস কইয়া বিষ খাওয়াইলা' গানটি ভিডিওর জন্য নির্বাচনের কারণ কী?

জবান আলী শাহর এই প্রথম গাইলাম, তা কিন্তু নয়। এর আগেও তার কথা ও সুরের 'প্রেমের মানুষ ঘুমাইলে চাইয়া থাকে' গানটি গেয়ে অসংখ্য শ্রোতার সাড়া পেয়েছি। অনেকদিন পর আবার তার লেখা কোনো গান করলাম। কারণ 'রস কইয়া বিষ খাওয়াইলা' গানে দারুণ একটি গল্প আছে। এর ভিডিওতে দেখা যাবে চারজন প্রেমিকের একজন প্রেমিকা। সবাই যার যার অবস্থান থেকে মনে করে যে, তাদের প্রেমিকা তাদের খুব ভালোবাসে। কিন্তু একটি সময় তারা প্রেমিকার প্রতারণা আর দংশনের বিষে নীল হয়ে যায়। এই গানে বেদনা যেমন আছে, তেমনি আছে রসবোধ ও চিরায়ত মাটির গন্ধ। মিউজিক ভিডিও নির্মাতা চন্দন রায় চৌধুরী গীতিকথার সঙ্গে কিছুটা ইমপ্রোভাইজড করে এর গল্প তুলে ধরেছেন। সব মিলিয়ে ভিডিওতে দর্শক ভিন্নতা খুঁজে পাবেন।

নিরীক্ষাধর্মী কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই কি আবার লোকসুরের গান করলেন?

নিরীক্ষাধর্মী কাজ তো প্রায়ই করি। এ জন্য আবার লোকসুরের গান করলাম- বিষয়টি ঠিক তা নয়। লোকসুরের গানের প্রতি ভালো লাগা সবসময় ছিল। হঠাৎ মনে হলো, একনাগাড়ে বেশ কিছু মেলো-রোমান্টিক গান করলাম, এবার একটু অন্যকিছু করি। সেই ভাবনা থেকেই 'রস কইয়া বিষ খাওয়াইলা' গানটি গাওয়া।

নিজেকে ভেঙে নতুন করে উপস্থাপন করার বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয় না?

এই বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতা কম নয়। তাই প্রতিটি কাজেই ঝুঁকি নিতেই হয়। নইলে গায়কিতে কোনোভাবেই নিজেকে ভাঙা সম্ভব হতো না। তা ছাড়া নির্দিষ্ট ঘরনার গান করে গণ্ডিবদ্ধ শিল্পীদের দলে নিজেকে রাখতে চাই না। এ জন্য প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করি।