‘যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি, তা কল্পনা করাও কঠিন’

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২০ জুলাই ২০২০   

বিনোদন প্রতিবেদক

ফাহমিদা নবী। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও উপস্থাপক। করোনার জন্য দীর্ঘ সাড়ে চার মাস বিদেশে আটকে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন তিনি। কোয়ারেন্টাইনে থেকেই করছেন নতুন গানের আয়োজন। বিদেশে আটকে পড়ার অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

সফর ছিল এক মাসের, ফিরলেন সাড়ে চার মাস পর। ভিনদেশে কেমন কেটেছে এই করোনার সময়টা?

সফরের শুরু ছিল আনন্দের। যতবার ইংল্যান্ডে গিয়েছি, প্রতিবারই কোনো না কোনো শোর উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু এবারের সফর ছিল মেয়ে আনমোলের সঙ্গে ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ঘুরে বেড়ানো। সেই সঙ্গে ছোট বোন অন্তরা আর ভাগ্নের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়টি তো ছিলই। কিন্তু সবই এলোমেলো হয়ে গেছে করোনার আক্রমণে। লকডাউনের পর জীবনের এমন সব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি, তা কল্পনা করাও কঠিন।

লকডাউনের পর কী হয়েছিল, তা বলা যাবে কি?

সব কথা সহজে বলা যায় না, বলতেও চাই না। এটা স্বীকার করি যে, এই লকডাউনে জীবনকে নানাভাবে দেখা হলো। জীবন সংগ্রামে, টিকে থাকার লড়াইয়ে- তাই সবকিছুর সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়; এই সত্য নতুন করে উপলব্ধি করেছি। লন্ডনে এক মাস থাকার পর, হাতে টাকা-পয়সা যা কিছু ছিল, তা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। কীভাবে দিন কাটবে, তা নিয়ে দিশেহারা অবস্থা। ছোট বোনের কাছে হাত পাততে চাইনি লজ্জায়। তারপরও ভেঙে পড়িনি। ২০ পাউন্ড দিয়েই ২০ দিন কাটিয়ে দিয়েছি। লকডাউনের শুরুতে প্রথম যেখানে আটকা পড়েছি, সেখানে এক জোড়া কাপড়ে সপ্তাহ পার করতে হয়েছে। এমন আরও অনেক ঘটনা আছে, যা আমাকে জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

দেশে ফেরার পর কেমন মনে হচ্ছে?

মুক্তির স্বাদ কেমন- আরও একবার নতুন করে জানা হলো, দেশে ফেরার পর। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাইরে যখনই পা রেখেছি, কী এক প্রশান্তিতে বুকটা ভরে গেছে।

সামনে ঈদ, নতুন কোনো আয়োজন নিয়ে ভাবছেন?

এখন তো ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ততদিনে তো মনে হয় ঈদ শেষ হয়ে যাবে। তারপরও যদি অনলাইনে কোনো কাজের সুযোগ থাকে তাহলে তা করতে পারি। কিন্তু সে কাজে যদি মন সায় না দেয়, তাহলে করব না। কারণ আমি অর্থ বা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এমন কিছু করতে চাই না, যা আমার শিল্পীসত্তাকে খুশি করতে পারবে না।

তাহলে কি নতুন কোনো গান প্রকাশের পরিকল্পনা নেই?

লকডাউনের সময় কাজে লাগাতে গান লেখা ও সুর করার চেষ্টা করে গেছি। আরও দুটি গান তৈরি করেছি, বর্ণ আর সজীবের সুরে। কম্পোজিশন শেষ হলেই রেকর্ডিং করব। রেকর্ডিংয়ের পর এই গানগুলোই একে একে প্রকাশ করার পরিকল্পনা আছে। কিন্তু কবে গান প্রকাশ করব- তার দিন তারিখ এখনই বলতে পারছি না।