কলমাকান্দায় সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হয়নি, হতাশ কৃষকেরা

প্রকাশ: ২৫ মে ২০১৯     আপডেট: ২৫ মে ২০১৯      

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

ধানে লোকসান দিয়ে কৃষকের মাথায় হাত— সমকাল

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় সরকারিভাবে এখনো ধান ক্রয় শুরু হয়নি। যার ফলে প্রান্তিক ধান কৃষকরা হাট-বাজারের ফড়িয়া ও দালালদের কাছে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রতি মণ ধানে কৃষকদের লোকসান দিতে হচ্ছে সাড়ে ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন ধান চাষীরা।

সরকারিভাবে প্রান্তিক ধান কৃষকের কাছ থেকে গত ২৫ এপ্রিল থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস অজ্ঞাত কারণে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ধান ক্রয় শুরু করেনি।

এদিকে কলমাকান্দা উপজেলায় ধান চাষীরা ধান কাটা শুরু করেছেন প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে। হাট-বাজারে ধানের আমদানি প্রচুর হলেও ক্রেতার অভাবে তারা কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফারুক আহমেদ সমকালকে বলেন, 'কলমাকান্দায় বোরো মৌসুমে ৮৩ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাদ্য গুদামে এবার ২৬ টাকা কেজি দরে ৬১৩ মে: টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে সর্বশেষ কৃষি শুমারি অনুযায়ী কৃষি কার্ডধারী ৪৫ হাজার ১৬০ জন কৃষক রয়েছেন। এর মধ্যে প্রতি ইউনিয়ন থেকে ৬০ জন করে ৪৮০ জন কে বাচাই করা হয়েছে।'

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, 'আমরা এখনো পর্যন্ত প্রান্তিক কৃষকদের চূড়ান্ত তালিকা হাতে পায়নি। তালিকা পাওয়ার পরই  সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু করবো।'

অপরদিকে উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি অনুমোদিত ১৯টি চাতাল কলের মাধ্যমে ২৬৭৩ টন সিদ্ধ চাল ও ৭৮৭ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষে বোরো সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা ও আতপ চাল ৩৫ টাকা দরে ক্রয় করা হবে। তবে বেশিরভাগ চাতাল মালিকদের সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে চাল তৈরি করে খাদ্য গুদামে দেওয়ার দৃশ্যমান হয়নি। যার ফলে স্থানীয় বাজারে কৃষকরা কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিষয় : কলমাকান্দা নেত্রকোনা সরকারিভাবে ধান ক্রয় বোরো মৌসুম