কিশোরকে গলা কেটে হত্যা করল ৩ বন্ধু

প্রকাশ: ০১ জুন ২০১৯      

কিশোরগঞ্জ অফিস

ফারদিন আলম রূপক

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তিন বন্ধুর হাতে খুন হয়েছেন ফারদিন আলম রূপক নামে এক কিশোর। শুক্রবার সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু সরণির আইডিয়াল স্কুলের পেছনের একটি ৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত রূপক নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের নূরে আলম বিপ্লবের ছেলে। তারা ভৈরব বাজার হাজী ফুল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রূপকের তিন বন্ধুকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন, ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়ার মৃত কামাল মিয়ার ছেলে ফজলে রাব্বি (১৮) ও শাজাহান পাটোয়ারীর ছেলে আরাফাত পাটোয়ারী (১৭) এবং ভৈরব রাণীবাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ওবায়দুল কবির খানের ছেলে রেজাউল কবির খান (১৭)। প্রাথমিকভাবে তিনজনই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বন্ধুদের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয় রূপক। অনেক রাতেও বাসায় না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবারের লোকজন। পরে রাত ২টায় ভৈরব থানায় একটি জিডি করা হয়। শুক্রবার সকালে রাব্বির বাসার ছাদ থেকে রূপকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আটক তিনজনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রেজাউল, আরাফাত ও রাব্বি ফোন করে রূপককে রাব্বিদের বাসার ছাদে নিয়ে আটকে রাখে। পরে তিনজন মিলে পরামর্শ করে রূপকের বাবার কাছে মুক্তিপণ চাওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে তারা টাকা চায়নি। আবার রূপককে ছেড়ে দিলে বিষয়টি জানাজানি হতে পারে বলে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। রাত ১০টার দিকে তিনজন মিলে রূপকের গলায় রশি পেঁচিয়ে অচেতন করে। পরে ছুরি দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে লাশটি গুম করার জন্য বস্তাবন্দি করে। কিন্তু সে সুযোগ না পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

ভৈরব থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, রূপককে তারই তিন বন্ধু গলা কেটে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে পালিয়ে যায়। জড়িত তিনজনকেই আটক করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।