সংসদের ভোটে আ. লীগের ব্যয় এক কোটি টাকা

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০১৯     আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ের তুলনায় আয় বেশি হয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের। এবার দলটির ব্যয় হয়েছে এক কোটি পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। কিন্তু আয় হয়েছে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা। দশম ও নবম সংসদের তুলনায় দলটির ব্যয় অনেক কমেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া দলের নির্বাচনী খরচের হিসাব পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত রোববার আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার কাছে এ হিসাব জমা দেয়। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ব্যয়ের রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা চালু হয়।

ব্যয় কম হওয়ার কারণ হিসেবে এইচটি ইমাম জানিয়েছেন, আগে সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের আর্থিক সহায়তা করা হতো। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে তা করা হয়নি। উল্টো অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী দলকে অনুদান দিয়েছেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী জোট মাত্র ৮টি আসন পায়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ও এর ফল নিয়ে বিরোধী জোট ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। তাদের বিজয়ী এমপিরাও এখন পর্যন্ত শপথ গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, সেখানে জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যয় এক কোটি পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ছিল দুই কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ৭১২ টাকা। আর নবম সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল তিন কোটি ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৪ টাকা।

ইসিতে নির্বাচনী খরচ জমা দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন- দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার, সেলিম মাহমুদ প্রমুখ।

সিইসির কাছে দলের ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পর এইচটি ইমাম সাংবাদিকদের জানান, নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনের পরও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে ঠিক সময়েই ব্যয়ের বিবরণী জমা দেওয়া হয়েছে। এবারও কমিশনে ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালে নির্বাচনী ব্যয় কিছুটা বেড়েছিল। এবার কমেছে।

তিনি বলেন, 'চলমান উপজেলা নির্বাচনে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন ও এই বার্তাটি সবার কাছে চলে গেছে- প্রশাসন ও পুলিশের কেউই কোনো নির্বাচনে কোনো রকম প্রভাব তো খাটাবেই না, বরং নিরপেক্ষভাবে ও পক্ষপাতহীনভাবে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করবে। এ কাজটি তারা করেছেন ও নির্বাচন কমিশন সে জন্য সন্তুষ্ট।'

উপজেলা নির্বাচনে যেসব সংসদ সদস্য নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট চেয়েছেন, তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত বিষয়ে এইচটি ইমাম বলেন, দলীয় ফোরামে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানে দুটি বিষয় আছে- একটি হলো নির্বাচনী আইন যদি কেউ ভঙ্গ করে থাকেন। এমন ক্ষেত্রে ইসি অনেককেই, এমনকি দুয়েকজন মন্ত্রীকেও সতর্ক করে দিয়েছে। এমপিদের অনেককেও সতর্ক করা হয়েছে। এটা নির্বাচনি আইন ভঙ্গের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর দ্বিতীয়ত দলের পক্ষ থেকে- একজন নৌকার প্রার্থী হলেও একই সঙ্গে বলে দেওয়া হয়েছিল, অন্যরাও নির্বাচন করতে পারেন। এটা কীভাবে নেবেন তা দলে আলোচনা হয়েছে। দলের অনেকের কাছে হয়তো ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ইসিকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে ও শক্তিশালী করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা করে চলেছে। আওয়ামী লীগ সর্বাত্মকভাবে সব সময় প্রস্তুত।