হলি আর্টিসানে হামলার মামলার রায় ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

জঙ্গি হামলার পর হলি আর্টিসানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান- ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলার রায় বুধবার।

গত ১৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবর রহমান রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের এই দিন ধার্য করেন।

নৃশংস ওই হামলায় নিহতদের স্বজনরা চান, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক জড়িতদের, যেন এমন ঘটনা আর কখনও না ঘটে। জঙ্গিবাদ দমনের স্মারক হয়ে উঠুক এই রায়। এতে প্রতিফলিত হোক ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রত্যাশা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ জন নিহত হন। হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা এএসপি রবিউল করিম এবং ওসি সালাউদ্দিন খান নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।

হলি আর্টিসান মামলার তদন্ত শেষে ওই ঘটনায় ২১ জনের সম্পৃক্ততা মিলে। তাদের আসামি করে গত বছরের ২৩ জুলাই চার্জশিট দেয় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

তারা হলো- মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী, সরোয়ার জাহান ওরফে আব্দুর রহমান, তানভীর কাদেরী ওরফে জামসেদ, নূরুল ইসলাম মারজান, বাশারুজ্জামান চকোলেট, মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, রায়হান কবির ওরফে তারেক, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলামুল ইসলাম ওরফে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, হাদীসুর রহমান সাগর, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, মামুনুর রশিদ রিপন ও শরীফুল ইসলাম খালিদ।

তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় পুলিশ-র‌্যাবের অভিযানে ১৩ জঙ্গি নিহত হয়। তাই চার্জশিটে তাদের নাম রাখা হয়নি। চার্জশিটভুক্ত জীবিত ৮ আসামি হচ্ছে- নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম খালেদ, মামুনুর রশিদ রিপন ও আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা সোহেল। গত বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৮ জঙ্গির বিচার।

এদিকে রায় ঘিরে ঢাকার আদালত পাড়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই আদালত পাড়া এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থার আওতায় নেওয়া হয়। এছাড়া দেশব্যাপি থাকছে বাড়তি নজরদারি।

দুপুরে ঢাকার আদালত পাড়া পরিদর্শন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় ও মীর রেজাউল আলম। পরিদর্শন শেষে তারা আদালত পাড়ার বিশেষ নিরাপত্তায় লালবাগ ডিভিশন ও আদালতের ডিসি প্রসিকিউশনকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন।