বলিউড সিনেমায় পা রাখার পর থেকেই ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়ে ওঠে আলিয়া ভাটের নাম। একের পর এক ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ করেছেন মহেশকন্যা। বলিউডে করণ জোহরের 'স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার' ছবি থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছে। নিজের অভিনয় দক্ষতার কারণে কখনও ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক বক্স অফিস হিট দিয়েছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে কীভাবে গড়ে নিতে হয়, তার প্রমাণও দিয়েছেন আলিয়া। চলতি বছরে মুক্তি পেয়েছে আলিয়া অভিনীত 'গাঙ্গুবাই'। এই ছবিটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করছেন বলিউডের চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। বলা যায়, আলিয়ার বৃহস্পতি একেবারে তুঙ্গে। অন্যদিকে চলতি বছরে আলিয়ার ব্যস্ততার সঙ্গে খুশির খবরের ছড়াছড়ি। বিয়ে, বাচ্চা, হলিউডে ছবি, নিজের প্রথম প্রযোজনা- একের পর এক ঘটনাবহুল জীবন তাঁর। আগামী সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাবে রালিয়া [আলিয়া ও রণবীর] জুটির প্রথম সিনেমা 'ব্রহ্মাস্ত্র'। এদিকে আগামীকাল থেকে শুরু হবে আলিয়ার নতুন সফর। তা হলো অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক, যার শুরু হলো 'ডার্লিং'-এর মাধ্যমে। ছবিটি পরিচালনা করছেন জসমিত কে রিন। নেটফ্লিক্সের এ ছবিটি আলিয়ার সঙ্গে আরও প্রযোজনা করছে শাহরুখ খানের রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট। কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রকাশ হয় ছবির টিজার। সেখানে শেফালি শাহ ও আলিয়া ভাট তাঁদের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

ছবিতে মুসলিম মেয়ে বদরুন্নেসার চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলিয়া। বদরুন্নেসা প্রায়ই অত্যাচারিত হন তাঁর স্বামী হামজার দ্বারা। অনেক কষ্ট সহ্য করেন শুধু সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য। একসময় তিনি বুঝতে পারেন, অন্যায় সহ্য করা নয়, বরং প্রতিবাদ করা দরকার। বদরুন্নেসা বদলা নেওয়ার পথ বেছে নেন। নিজের বাড়িতেই স্বামীকে কিডন্যাপ করে অত্যাচার করেন। টিজারের শুরুতেই আলিয়া একটি ব্যাঙ আর বিছের গল্প বলছেন। সেই ব্যাঙ যে আলিয়া আর বিছে যে বিজয়, তা বুঝতে মোটেই অসুবিধা হয়নি দর্শকের। 'ডার্লিং'-এর টিজার আলিয়া আর বিজয়ের প্রেমের গল্প দিয়ে শুরু হলেও ছবি নিয়ে সাসপেন্স তৈরি হয়েছে দর্শকের মনে। মা-মেয়ের চরিত্রে রহস্যের গন্ধ টিজারেই পেয়েছিলেন দর্শক। ছবির ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের টিজারে বিভিন্ন লুকে দেখা গেছে আলিয়াকে। কখনও তিনি মা শেফালি শাহের সঙ্গে থানায় বসে আছেন। আবার কখনও সিনেমা হলে পপকর্ন খেতে খেতে সিনেমা দেখছেন।

সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া ট্রেলারে উঠে এলো তাঁদের ভিন্নরূপ। আদ্যোপান্ত এই ডার্ক কমেডিতে উঠে এলো গার্হস্থ্য হিংসার গল্প। ছবির ২ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের এই ট্রেলার প্রকাশের পরই অনলাইন মাধ্যমে ঝড় তুললেন আলিয়া। ট্রেলারের শুরুতেই দেখা যায়, আলিয়ার স্বামী হামজা [বিজয় ভার্মা] নিখোঁজ আর তাঁকে খুঁজতেই পুলিশের দ্বারস্থ হন আলিয়া ও তাঁর মা শেফালি শাহ। এরপরই টুইস্ট। ট্রেলারের শুরুতে আলিয়ার যে নিষ্পাপ চেহারা দেখা যায়, আসলে সে ততটাও নিষ্পাপ নয়; বরং তাঁর বিরুদ্ধে ঘটা গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে সোচ্চার তিনি। স্বামী হামজা তাঁর সঙ্গে যা যা ব্যবহার করেছেন, যেভাবে তাঁকে অত্যাচার করেছেন, স্বামীকে বন্দি করেই সেভাবেই অত্যাচার করে চলেছেন আলিয়া।

আলিয়ার সঙ্গে এই কাজে শামিল তাঁর মা ও বন্ধু। মুম্বাইয়ের প্রেক্ষাপটে লেখা এই গল্পে উঠে এসেছে এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মা-মেয়ের ভালোবাসা ও দুঃসাহসিকতার গল্প বলছেন পরিচালক জসমিত কে রিন। গার্হস্থ্য হিংসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে আনা হয়েছে ডার্ক কমেডির মাধ্যমে। এই ছবির হাত ধরে ডিজিটাল দুনিয়াতে পা রাখতে চলেছেন আলিয়া। এই ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন বিশাল ভরদ্বাজ এবং গানের কথা লিখেছেন গুলজার। ডিজিটাল মাধ্যমে আলিয়া দর্শকের কতটা কাছে পৌঁছাতে পারেন- এখন তার অপেক্ষা।