'গানের বাইরে আর কোনো কিছু নিয়ে ভাবি না। সংগীতের নেশা আমাকে এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে জীবনের বাকি সময়টা এর মাঝেই ডুবে থাকতে চাই।' ইমনের মুখে এ কথা শুনে আমরা কেউ অবাক হইনি। হওয়ার কথাও নয়। কারণ, সংগীতপাগল এই মানুষটিকে কখনও নাম-যশ-খ্যাতির পেছনে ছুটতে দেখা যায়নি। যে জন্য তিন-চার বছর আগেও ইমন চৌধুরীকে সবাই চিরকুট ব্যান্ডের সদস্য হিসেবেই চিনতেন। তাঁর ম্যান্ডেলিন আর গিটার বাদনে মুগ্ধ শ্রোতারও অভাব নেই। কিন্তু ব্যান্ডের পাশাপাশি এককভাবে তিনি যে আরও কত কী করেছেন এবং করে যাচ্ছেন, তা অনেকেরই অজানা। সামনে থেকে তিনি চিরকুট ব্যান্ডের সৈনিক, কিন্তু আড়ালে জনপ্রিয় অসংখ্য একক ও দ্বৈত গান, জিঙ্গেল এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের সংগীত পরিচালক তিনি।

তাই তাঁর সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা হলেও স্রষ্টা হিসেবে তিনি থেকে গেছেন শ্রোতার অগোচরে। ২০২০ সালে 'মায়া :দ্য লস্ট মাদার' ছবির সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ইমন চৌধুরী। আর তখনই প্রথমবারের মতো চিরকুট ব্যান্ডের সদস্যের পরিচয়ের বাইরে শ্রোতারা তাঁকে আলাদাভাবে চিনতে শুরু করেন। 'মায়া :দ্য লস্ট মাদার' ছিল ইমনের প্রথম ছবি, যেখানে তিনি সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। এরপর নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের 'গুণিন' ও 'পাপ পুণ্য'র পর 'কাজলরেখা' ছবিতেও কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছে।

পাশাপাশি তাহসান, এলিটা, মাহাদি, মিনার, বেলাল খান, পূজাসহ আর বেশ কিছু শিল্পীর দ্বৈত ও একক গানের সুরকার ও সংগীতায়োজক হিসেবে কাজ করছেন ইমন। 'আমার প্রাণ ধরিয়া মারো টান' শিরোনামে একটি গানে কণ্ঠ দিয়েও শ্রোতার মনোযোগ কেড়েছেন। জিঙ্গেল এবং সিনেমার আবহ সংগীতের আয়োজক হিসেবে তাঁর কাজের সংখ্যা অবাক করার মতো। 'ওয়ান ম্যান ব্যান্ড' নাম দিয়ে এককভাবে ইনস্ট্রুমেন্টাল আয়োজন করে যাচ্ছেন তিনি। এই যে নীরবে-নিভৃতে এত কিছু করে যাচ্ছেন, তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তারপরও কেন আড়ালে থাকা?

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'নিরীক্ষা আর কাজে মনোযোগ ধরে রাখার জন্যই একটু আড়ালে থাকা। জনপ্রিয়তা, খ্যাতি সবই সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে। তাই শ্রোতার ভালোবাসা, পরিচিতি সবই যে কাজকে কেন্দ্র করে, সেই কাজেই মনোযোগ বেশি থাকে। সততা, নিষ্ঠা ধরে রাখা জরুরি বলেই আমি মনে করি। এরপর কী পেলাম, না পেলাম- তা নিয়ে ভাবলেও ভাবা যেতে পারে।' ইমনের এই কথায় বোঝা গেল, জনপ্রিয়তার চেয়ে কাজ তাঁর মুখ্য।

তাই ইমন যখন বলেন, দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা 'হাওয়া' ছবির 'সাদা সাদা কালা কালা' গানটি তাঁর তিন বছরের প্রয়াস- তখনও অবাক হওয়ার কিছু থাকে না। এই গানের সংগীতায়োজনে ইমন তিন বছর নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন বলেই হয়তো সমকালীন অন্যান্য গান থেকে এটি একেবারে আলাদা হয়ে উঠেছে। এর সংগীত মূর্ছনায় শ্রোতামাত্রই নতুন এক শব্দ সংযোজনা খুঁজে পেয়েছেন। এভাবেই প্রতিটি সৃষ্টিতে ইমন চৌধুরী রেখে যাচ্ছেন নিজস্বতার ছাপ।

বিষয় : ইমন চৌধুরী

মন্তব্য করুন