শামা রহমান। নন্দিত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। তিনি দুই বাংলায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং বিশ্বদরবারে রবীন্দ্রসংগীতকে উপস্থাপন করেছেন আপন মহিমায়। রবীন্দ্র-প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে দেশবরেণ্য এই কণ্ঠশিল্পীর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন

কখন থেকে রবীন্দ্রনাথের গানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলো?
সাত বছর থেকেই আমার গানে হাতেখড়ি। মা ভীষণ গান ভালোবাসতেন। ছোটবেলা থেকে আমাদের বাড়িতে নানা গুণীজন এসে গান করতেন। সেই থেকে শুরু।
গান শিখতে হবে। শিখেছি- ক্যারিয়ারের শুরুতে এ রকম একটা ব্যাপার ছিল। পরে সব ধরনের গান আমি পছন্দ করতাম। একটা সময়ে বেশ কিছুদিনের জন্য বিদেশে এসেছিলাম। তখন থেকেই রবীন্দ্রনাথের গানকে আমার আপন মনে হয়েছিল। সেই থেকেই রবীন্দ্রনাথের গান ভালোবাসার গান। মা আমাকে একবার বলেছিলেন, তুমি যদি রবীন্দ্রনাথে একবার ঢুকে যাও আর বের হতে পারবে না। সে কথার অর্থ তখন বুঝিনি। এখন আমার মনে হয়, রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি গান আমার নিজের গান। খুব কাছের মনে হয়।

রবীন্দ্রনাথের অনেক পর্যায়ের গান গেয়েছেন। কোন পর্যায়ের গানে আপনার স্বাচ্ছন্দ্য?
এককথায় এর উত্তর দেওয়া মুশকিল। কোন মুহূর্তে কোন গান ভালো লাগে, বলা যায় না। তবে পূজা পর্যায়ের গান গাইতেই ভালো লাগে। কাব্যগীতির গানও পছন্দের।

রবিঠাকুরের সৃষ্টি শত বছর পরও কেন সমকালীন বলে আপনি মনে করেন?
রবিঠাকুরের সমগ্র সৃষ্টিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর গানের কথা ও সুরে শ্রোতাদের কাছে টানার মন্ত্র আছে। গুণী মানুষটির প্রতিটি সৃষ্টিতে আছে বহুমাত্রিকতা। গানের বেলায়ও আমরা দেখি- প্রকৃতি, প্রেম থেকে শুরু করে কবিগুরুর সৃষ্টিবৈচিত্র্যের জন্য শ্রোতার ভাবনার সঙ্গে তাঁর গানের বাণী দারুণভাবে মিলে যায়। অনুভবজুড়ে মিশে যায় তাঁর সুরের পরশ। এ কারণেই শতবর্ষ পরেও রবীন্দ্রসংগীতের আবেদন এতটুকু কমেনি।

রবীন্দ্রসংগীতের পরিবেশনা রীতিতে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
রবীন্দ্র-গানের আবেদন চিরকালীন। প্রযুক্তি কিংবা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার আমার কাছে কখনোই নেতিবাচক মনে হয়নি। রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে গান করতেন। আমি অনেক তরুণ শিল্পীর গান শুনি। শুধু পিয়ানো, কিবোর্ড কিংবা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র দিয়ে সুন্দর কম্পোজিশন করছেন। কথায় আছে, প্রতিটি বয়সের আলাদা সৌন্দর্য থাকে। বিভিন্ন ঘরানার রবীন্দ্র-গানেও আলাদা আবেশ আছে। গানকে ঠিক না রেখে যখন গাওয়া হয়, তখন কিন্তু শুনতে ভালো লাগে না। শ্রোতারাও মনে রাখেন না সেই গান।

তরুণদের মধ্যে ররীন্দ্রনাথের গান নিয়ে আগ্রহ কেমন দেখছেন?
আজকাল যেখানেই গান গাইতে যাই না কেন, সেখানে তরুণ প্রজন্মের শ্রেতাদের উপস্থিতি দেখি। তাঁরা কিন্তু মন দিয়েই গান শোনেন। এবং তাঁরা খুব কঠিন গান অনুরোধ করেন। আমার তখন খুবই ভালো লাগে। তার মানে তাঁরা গান শুনছেন। ক্রমে তরুণ শ্রোতা বাড়ছে।

অনেক দিন নতুন কোনো অ্যালবাম প্রকাশ করছেন না। এর কারণ কী?
সত্যিই তাই। করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ায় স্টুডিওতে গিয়ে গান করার সুযোগ হচ্ছিল না। এ কারণে নতুন কোনো গান রিলিজ করতে পারিনি। এখন সবাই সিঙ্গেল গান প্রকাশ করছেন। শ্রোতারা একসঙ্গে এত গান শুনতে পছন্দ করছেন। তবে কলকাতার ভাবনা রেকর্ডস থেকে একটি অ্যালবাম প্রকাশের কথা রয়েছে। অ্যালবামের জন্য ২০টি গান করেছি।

রবীন্দ্র-প্রয়াণ দিবসের কোন আয়োজনে আপনি থাকছেন...
বিটিভি, মাছরাঙা ও বাংলাভিশনে অনুষ্ঠানে অংশ নেব। অনলাইনে ভারতের একটি অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।