মানব শরীর অদ্ভুত জিনিস বহন করতে পারে হয়তো, কিন্তু কেউ নিশ্চয় তেলাপোকা বহন করবে না। তবে সেরকম কিছু শরীরের ভেতর ঢুকে গেলে নিশ্চিত খুব ভয়ঙ্কর ব্যাপার এবং সেটা দীর্ঘ সময় কেউ ভেতরে রাখতেও চাইবে না। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডের এক অধিবাসী সম্প্রতি সেইরকম এক ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।  

জেন ওয়েডিং নামের ওই ব্যক্তির কানের ভেতর ঢুকে যাওয়া তেলাপোকায় যে অভিজ্ঞতা পেয়েছেন তা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ব্যবহারকারীদের বলেছেন, কেউ যদি কখনো কানের ভেতর কোনো লম্ফঝম্প অনুভব করেন তাৎক্ষণিকভাবে যেন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। এজন্যই তিনি সবার সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেছেন বলে জানান। খবর এনডিটিভির।  

জেন বলেন, তিনি যখন বিষয়টি প্রথম টের পান ভেবেছিলেন পানিতে বোধহয় তার কান বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি আংশিক সত্যও। তিনি ভাবেন, আগেরদিন গোসলের সময় বোধহয় তার কানের ভেতর পানি ঢুকেছে। কিন্তু দ্রুতই সে ভাবনা ভয়ে পরিণত হতে থাকলো যখন দেখলেন তিনি স্থির থাকা সত্ত্বেও কানের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন চিকিৎসকের কাছে যাবেন।  

৮ জানুয়ারি চিকিৎসক তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিলেন এবং বললেন চুল শুকানোর যন্ত্র দিয়ে কানের ভেতর শুকাতে হবে। কিন্তু এতেও তার সমস্যা রয়ে যায়। এতে তিনি কানের ক্লিনিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

কানের ক্লিনিকে গেলে প্রথমে চিকিৎসক তাকে বলে তার কানের ভেতর টিউমার হয়ে থাকতে পারে। যদিও পরক্ষণেই তাকে বলা হয় তার কানে কোনো পোকা ঢোকে থাকতে পারে। চিকিৎসক যখন এই কথা বলছিলেন তখন তিনি ভয়ে বসা থেকে লাফিয়ে উঠেন। চিকিৎসকও যেন ঘটনাটি ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, কিন্তু পরে তিনিই তার কানের ভেতর থেকে তেলাপোকাটি বের করেন।  

ফেসবুক পোস্টে ওয়েডিং তার কানের ভেতর থেকে বের করা তেলাপোকাটির ছবি শেয়ার করেছেন। তাতে তিনি ক্যাপশন দেন, দ্বিতীয়বার মতামতের জন্য আরেক চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম এবং আমার কানের ভেতর থেকে তেলাপোকা বের করা হয়েছে। কানের ভেতর তিন দিন এই তেলাপোকা নিয়ে ছিলাম।