বাজারে-দোকানে জিনিস কিনতে আজকাল অনেক জায়গাতেই লাইনে দাঁড়াতে হয়।  ইলেক্ট্রিক বিল, সিনেমা-থিয়েটার-খেলার মাঠেও টিকিট কিনতে বড় লাইন পড়ে।  এছাড়া কোভিডের যুগে গোটা বিশ্বে শপিংমলেও লম্বা লাইন দাঁড়াতে হচ্ছে।  কোভিডের কারণেও হুড়োহুড়ি নয়, বরং লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ সারার বাধ্যবাধকতা রয়েছে অনেক স্থানে। কারও কারও কাছে এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাটা খুবই বিরক্তিকর। কিন্তু অন্য কোনো উপায়ও না থাকায় বাধ্য হয়েই সবার লাইনে দাঁড়িয়েথেঁকে কাজ শেষ করতে হচ্ছে। কিন্তু ধরুন, কেউ যদি আপনার হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিটটা কেটে দেয় কিংবা অন্য কাজ করে দেয় টাকার বিনিময়ে তাহলে বিষয়টা কেমন হবে?


শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ইংল্যান্ডের নাগরিক যুবক ফ্রেডি বেকিটের পেশাই কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা। এই কাজে প্রতি দিন ঘণ্টা হিসেবে ২০ পাউন্ড করে দিনে গড়ে ১৬০ পাউন্ড আয় করেন। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য দাঁড়ায় ১৮ হাজার টাকা।  

কোনো দোকান থেকে কিছু কিনতে, টিকিট কাটতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। বিনিময়ে ভালো পারিশ্রমিকও পান ।

অনলাইন যুগ আসার পর লাইনে দাঁড়ানোর ব্যাপারটা খানিক কমেছে। তারপরও অনেকে অনলাইনে কাজ করতে পছন্দ করেন না। হাতের কাজ হাতে হাতে করাটাই তাদের পছন্দের। কিন্তু সমস্যা হল, একদল এতই ব্যস্ত যে অনলাইনের জটিলতা পছন্দ না হলেও লাইনে দাঁড়ানোর মতো সময়ও নেই তাদের কাছে। এরাই মুলত ফ্রেডির কাস্টমার। যাদের বয়স হয়েছে, সন্তান বা আত্মীয়স্বজন নেই বা তাদের সঙ্গে যোগ নেই, তবে অর্থবান। তাদের হয়েই মিউজিয়ামের টিকিট কাউন্টারে, থিয়েটার কী সিনেমা হলে, ট্রেনের-বিমানের টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন ফ্রেডি। তবে কখনও কখনও অর্থবান তরুণদের হয়েও লাইনে দাঁড়ান তিনি।

৩১ বছর বয়সী ফ্রেডি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করা তার জন্য কোনো সমস্যাই নয়। তবে তীব্র গরম বা ঠান্ডা পড়লে ধৈর্য রাখতে হয়।

তিনি আরও জানান, কাস্টমাররা তাদের সময় মতো এসে ফ্রেডির কাছে থেকে কাজ বুঝে নেন, ফ্রেডিও বুঝে নেন তার পারিশ্রমিক ।

ফ্রেডি বলেন, আমি দিনে আট ঘণ্টা কাজ করি। প্রবীণ ধনী ব্যক্তিরা আমার কাস্টমার। কোথাও হয়তো চিত্র প্রদর্শনী চলছে, আমি লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য টিকিট কেটে রাখি। তারা প্রদর্শনী শুরু হওয়ার সময় এসে আমার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে নেন। বিনিময়ে আমার প্রাপ্য মিটিয়ে দেন'।

লাইনে দাঁড়ানোর ছাড়াও ফ্রেডি একজন লেখক। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজও করেন। সূত্র: টাইমস নাউ, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস