লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার উপকূলে ৩০০ বছরের বেশি সময় আগে ডুবে যাওয়া বিখ্যাত জাহাজ সান জোসের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে স্বর্ণসহ বিপুল পরিমাণ ধনরত্নের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মূল্য ১৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। নতুন এক অভিযানে ওই জাহাজের কাছে আরও দুটি জাহাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ দুটিও ডুবেছে অন্তত ২০০ বছর আগে।

১৭০৮ সালে স্পেনের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দেশটির জাহাজ সান জোসেকে ডুবিয়ে দেয় ব্রিটিশরা। জাহাজটিতে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী ছিল। ২০১৫ সালে এই জাহাজের সন্ধান পাওয়া যায়। একটি দূরনিয়ন্ত্রিত যানের মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। দূরনিয়ন্ত্রণ যানটিকে প্রায় ৩ হাজার ১০০ ফুট গভীরে পাঠানো হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, ওই জাহাজটি সোনাদানায় ভর্তি। খবর নিউজউইক, ওয়াশিংটন পোস্ট ও মেইল অনলাইনের।

কলম্বিয়ার নৌবাহিনীর ধারণকৃত ভিডিওতে সান জোসের ধ্বংসাবশেষের কাছে আরও দুটি জাহাজও দেখা যায়। নীল ও সবুজ রঙের ছবিতে সান জোসেতে স্বর্ণের মুদ্রা, মৃৎপাত্র ও অক্ষত চীনামাটির কাপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান ডুক বলেছেন, ‘এটি পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতে উদ্ধারের জন্য টেকসই অর্থায়নের ব্যবস্থা করার চিন্তা করা হচ্ছে। এভাবে আমরা সান জোসে গ্যালিয়নের ধনরত্ন রক্ষা করতে চাই।’ এর ধ্বংসাবশেষকে পবিত্র জাহাজের আধার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সান জোসে সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার সময় মূল্যবান জিনিসপত্র বহন করছিল বলে মনে করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, সান জোসেতে অন্তত ২০০ টন ধনরত্ন ছিল। এর মধ্যে লক্ষাধিক উচ্চমানের বিশুদ্ধ স্বর্ণের ডবলুন কয়েন, অনেক রৌপ্য মুদ্রা এবং পান্না ছিল। এগুলো দক্ষিণ আমেরিকা থেকে লুণ্ঠন করেছিল স্পেন সাম্রাজ্য। কলম্বিয়ার সরকার এবং সামরিক প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখন এই উপাদানের শিলালিপি অধ্যয়ন করছেন, যাতে এসবের উৎপত্তি কোথায় তা নির্ধারণ করা যায়।

সান জোসে জাহাজটি উদ্ধারের অধিকার কার, তা নিয়ে কয়েক দশক ধরে মামলা চলছে। একটি পেশাদার উদ্ধারকারী সংস্থা ১৯৮১ সালে প্রথম এর ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার দাবি করেছে। পাশাপাশি কলম্বিয়া, স্পেন এবং আদিবাসী বলিভিয়ানদের কাহরা কাহরা জাতি দাবি করে যে ওই জাহাজের সম্পদ তাদের জনগণের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী জাহাজ 'সী সার্চ আরমাদা' ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিকে সান জোসে জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার দাবি করে। অন্যদিকে, ইউনেস্কোর একটি কনভেনশনের বরাত দিয়ে স্পেন দাবি করেছে, এই সম্পদ তাদের। কারণ, ৩০০ বছর আগে ওই জাহাজ ছিল স্পেনের। ওই জাহাজে এখনও শত শত স্পেনীয় নাবিকের দেহাবশেষ রয়েছে। ডুবে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে ৬০০ নাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে বেঁচে যান মাত্র ১১ জন।