ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

দুঃসময়ে দুর্বৃত্তপনা দ্বিগুণ অপরাধ

দুঃসময়ে দুর্বৃত্তপনা দ্বিগুণ অপরাধ

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, তা সময়োচিত। এমন দুঃসময়েও সরকারি সাহায্য দুর্

--

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:০৬

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, তা সময়োচিত। এমন দুঃসময়েও সরকারি সাহায্য দুর্গতদের কাছে পৌঁছাতে নয়ছয়ের অভিযোগ ইতোমধ্যে উঠতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ১০ টাকা কেজির চাল বস্তা বদলিয়ে সাধারণ বাজারে বিক্রির সময় সুনামগঞ্জে দু'জন আটক হয়েছে। শুধু তাই নয়, ত্রাণসামগ্রী বিতরণের অনিয়মের খবর প্রকাশ করার কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবরও আমরা পাচ্ছি। ইতোমধ্যে ভোলা ও হবিগঞ্জে এমন ঘটেছে। আমরা আশঙ্কা করি, দেশের অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের অনিয়ম ঘটে থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি শুনেই সংশ্নিষ্টরা সতর্ক হবেন- অতীতে এমন নজির আমরা দেখিনি। বরং প্রয়োজন সব এলাকায় কড়া নজরদারি। শুধু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বতঃস্ম্ফূর্ত সক্রিয়তা থাকতে হবে। থাকতে হবে রাজনৈতিক অঙ্গীকারও। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড থেকেও তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে সতর্কবার্তা। এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই এর আগে সংসদ সদস্যদের তাগিদ দেওয়া হয়েছিল, নিজ নিজ আসনে ত্রাণ সহায়তা ও বিতরণের কাজ তদারকি করতে। মাত্র সপ্তাহখানেকের মাথায় একাধিক জেলায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ করে, আমাদের আশঙ্কা অমূলক ছিল না। এখন সংসদ সদস্যদের সক্রিয় হতে হবে। এটাও ভুলে যাওয়া চলবে না, তৃণমূল পর্যায়ে অনিয়মের নেপথ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ থাকে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের আমরা ভূমিকা রাখতে বলি। অনিয়মের প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুঃসময়ে দুর্বৃত্তপনার শাস্তি দ্বিগুণ হওয়া উচিত। কারণ এতে কেবল দুর্গত মানুষের প্রাপ্য আত্মসাৎ করা হয় না; দুর্যোগও আরও প্রকট করে তোলা হয়। বস্তুত এই সময়ে অনিয়ম মানবতার পিঠে ছুরিকাঘাতের সমতুল্য। প্রশাসনের দায়িত্বশীলতাও যে জরুরি, মূলত চিকিৎসাসেবায় জড়িতদের প্রাপ্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বা পিপিই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা গায়ে দিয়ে 'ফটোসেশন' করে তার প্রমাণ দিয়েছেন। আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের অবিমৃষ্যকারিতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলেই প্রত্যাশা। বাজার স্থিতিশীল রাখতেও প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্যোগ জরুরি। যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্নের সুযোগ নিয়ে কেউ মজুদদারি করবে ও দাম বাড়াবে- এমন যেন না হয়। আমরা জানি, দুর্যোগ সত্ত্বেও অনেকের সক্ষমতা রয়েছে ন্যায্যমূল্যে বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার। অস্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা সেই সামর্থ্যও ক্ষুণ্ণ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সামনে মন্দা মোকাবিলায় প্রস্তুতির যে কথা বলেছেন, বাজারের স্থিতিশীলতা তার পূর্বশর্ত। আমরা দেখতে চাই, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই বাস্তবতা বুঝবে এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধামন্ত্রীর সেনানী হিসেবে ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক বিপদ করোনা মোকাবিলা সহজ নয় আমরা জানি; কিন্তু সবাই আন্তরিক, সক্রিয় ও সতর্ক থাকলে তা কঠিনও হতে পারে না।

আরও পড়ুন

×