ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রোহিঙ্গা সহায়তার দায়িত্ব বিশ্বেরই

রোহিঙ্গা সহায়তার দায়িত্ব বিশ্বেরই

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৩ | ০৪:১০

চলতি বৎসরে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুত মানবিক সহায়তার মাত্র ৩৭ শতাংশ অর্থ পাওয়া গিয়াছে; রবিবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের এই তথ্য অনাকাঙ্ক্ষিত হইলেও অমূলক নহে। বস্তুত এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তাগিদ দিয়া বলিয়াছি, সময় যতই অতিক্রান্ত হইবে, আন্তজার্তিক সহায়তা ততই হ্রাস পাইতে থাকিবে। দুর্ভাগ্যবশত সেই পরিস্থিতি সমাগত। বস্তুত ২০২০ সাল হইতেই পরবর্তী তিন বৎসর যথাক্রমে ৬০, ৭৩ ও ৬৩ শতাংশ সহায়তা মিলিয়াছিল।

আলোচ্য প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, চলতি বৎসর ৮৭ কোটি ৫৯ লক্ষ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকিলেও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিলিয়াছে ৩২ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার। বলা বাহুল্য, এই ঘাটতি পূরণ সহজ হইবে না; বরং পরিস্থিতির আরও অবনতিই ঘটিতে পারে বলিয়া আমরা আশঙ্কা করি। কারণ দাতা দেশগুলিই শুধু পিছাইতেছে না; খোদ জাতিসংঘও তহবিল সংকট দেখাইয়া খাদ্য সহায়তা জনপ্রতি ১২ হইতে ৮ ডলারে অবনমন করিয়াছে।

ঐদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন লইয়াও পূর্বাকাশে কোনো সুবর্ণ রেখা দৃশ্যমান নহে। অদ্যাবধি মিয়ানমারের নিকট ৮ লক্ষ ২৯ সহস্রাধিক রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করা হইলেও শেষ পর্যন্ত তাহারা ৩৮ সহস্রের নিম্নে নামাইয়া আনিয়াছে। কিন্তু উহাদের প্রত্যাবাসনও কবে সূচিত হইবে, নিশ্চিত নহে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে যদিও রাখাইন স্টেটে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াইতে হইয়াছে; ঐ প্রক্রিয়ার পরিণতি ও সময়সীমা এখনও অনির্দিষ্ট।

ইহাও স্পষ্ট, মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে বাধ্যও হয়; বিদ্যমান মৃদুগতি বিবেচনা করিলে উহাতে অনেক বৎসর সময় ব্যয় হইবে। অধিকন্তু বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা যে বাংলাদেশেই রহিয়া যাইবে, উহা স্পষ্ট। সেই ক্ষেত্রে তাহাদের খাদ্য, বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণ বৃহৎ চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন অসম্ভব।

কয়েক দশক ধরিয়া অবস্থানরত ও দফায় দফায় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন আমাদের সরকারের একার পক্ষে দুঃসাধ্য। কক্সবাজার অঞ্চলে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা শিবির হইতে ‘সস্তা শ্রমিক’ নিয়োগের যেই ধারা দৃশ্যমান; বরাদ্দ হ্রাসের কারণে উহা আরও বৃদ্ধি পাইবে। এইরূপ পরিস্থিতির আর্থসামাজিক বিরূপ প্রভাব বিবেচনা করিতে হইবে বৈকি।

আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উপেক্ষা করিতে পারে না। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১২ লক্ষাধিক বাড়তি জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়া যেই আর্থসামাজিক ঝুঁকি লইয়াছে, উহাই যথেষ্ট।

স্বীকার্য, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে লইয়া যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করিয়া আসিতেছে। প্রায় নিয়মিত বিরতিতে বিবৃতি দিতেও কার্পণ্য করিতেছে না। কিন্তু মানবিক সহায়তা দিতে  না পারিলে তো সকলই গরল ভেল!

আমরা নিশ্চয় চাই, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করুক। গণহত্যা ও নৃশংসতায় জড়িতদের বিচারও নিশ্চিত করিতে হইবে। কিন্তু ভুলিয়া যাওয়া চলিবে না, জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির বিকল্প নাই।

আরও পড়ুন

×