ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাংলাদেশে জাকাত: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

ইসলাম ও সমাজ

বাংলাদেশে জাকাত: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

প্রতিকী ছবি

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নূর

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:৪৮

জাকাত শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া বা পবিত্র করা। জাকাত ইসলামের একটি অন্যতম স্তম্ভ এবং ইসলামী অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য চালিকাশক্তি। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ৩২ বার জাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে ২৮ বার নামাজের সঙ্গে জাকাতের কথা বলেছেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের বহু আগে থেকেই মহান আল্লাহ জাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা মারিয়ামের ৫৪ ও ৫৫ নম্বর আয়াতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন: ‘তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে নামাজ ও জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে পছন্দনীয় ছিলেন।’ বাংলাদেশে জাকাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২ সালের প্রথম কোয়ার্টারে দেশের ব্যাংকগুলোতে মিলিয়নেয়ার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৫৯৭। এসব অ্যাকাউন্টে সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ২২ জুন, ২০২২)। মাত্র তিন মাসে নাকি মিলিয়নেয়ার অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ১ হাজার ৬২১টি। শতকরা আড়াই টাকা হিসেবে শুধু মিলিয়নেয়ার অ্যাকাউন্টে সঞ্চিত অর্থের জাকাত আসবে ১৬ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। অনেকে প্রশ্ন করেন, ইনকাম ট্যাক্স দিলে জাকাত কেন দিতে হবে? অথচ ইনকাম ট্যাক্সের সঙ্গে জাকাতের কোনো সম্পর্ক নেই। এমফিল করার সময় আমার গবেষণার বিষয় ছিল, ‘দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে জাকাতের ভূমিকা।’ এই গবেষণার সময় আমি দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যারা স্বল্প পরিসরে জাকাত নিয়ে কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলি। আগে যারা জাকাত নিয়ে গবেষণা করেছেন, তাদের গবেষণাও পর্যালোচনা করি। এর মধ্যে ছিলেন এম কবির হাসান (প্রফেসর, নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র), প্রফেসর শাহ মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান এবং মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে নানা খাত থেকে সম্ভাব্য জাকাত সংগ্রহের পরিমাণ হিসাব করেছিলেন।

মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে বাংলাদেশে সম্ভাব্য জাকাতের হিসাব করেছিলেন, যা ছিল ২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে শাহ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের হিসাবে সম্ভাব্য জাকাতের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। প্রফেসর এম কবির হাসান ১৯৯৭-৯৮ থেকে ২০০৫-০৬ সাল পর্যন্ত জাকাতের আটটি উৎস– রেমিট্যান্স, খনিজসম্পদ, ব্যবসায়িক পণ্য, ব্যাংক সঞ্চয়, মৎস্য খাত, কৃষি খাত, শেয়ার, পশুসম্পদ নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী ২০০৫-০৬ সালে সম্ভাব্য জাকাত ছিল ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা।

গবেষণার অংশ হিসেবে আমি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে জাকাতের মাত্র ৫টি খাত চিহ্নিত করে হিসাব করি। খাতগুলো ছিল– কৃষি উৎপাদন, খনিজসম্পদ, পশুসম্পদ, মৎস্যসম্পদ ও ব্যাংক সঞ্চয়। আমি দেখেছি, এই পাঁচটি খাত থেকেই সঠিক জাকাত আদায় করলে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা পাওয়া সম্ভব। আমি ‘Scientific Management of Zakat in Bangladesh: Prospects and Challenges’ নিয়ে পিএইচডি করছি। গবেষণার অংশ হিসেবে আমি রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত এলাকা বেছে নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে, বেশির ভাগ মানুষ জাকাতের ব্যাপারে সচেতন নন। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামর্থ্যবানদের উৎসাহী করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়েছে। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নূর: পিএইচডি গবেষক, বিইউপি
nasifnur69@gmail.com
 

আরও পড়ুন

×