স্বাধীনতার পর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে উচ্চশিক্ষার নানা পথ প্রশস্ত হয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাঙ্গনে জনসংযোগ কার্যক্রমের পরিসর বেড়ে যায়। জনসংযোগ অফিসগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল বাড়তে থাকে। কার্যক্রমের ক্ষেত্রও বিস্তৃত হতে থাকে। উচ্চশিক্ষায় মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং, স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি শুরু হলে শিক্ষায় মান বিবেচনা, গবেষণা, উচ্চশিক্ষায় নানাবিধ ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় প্রতিটি স্তরে যোগাযোগ কৌশল নিয়ে ভাবনা শুরু হয়। বাড়তে থাকে জনসংযোগের গুরুত্ব। শিক্ষকদের মধ্যে দেশে-বিদেশে যোগাযোগ, সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে নিবিড় যোগাযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তৎপরতা, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, শিক্ষাক্ষেত্রে সংকট, ছাত্র অস্থিরতা, জনমতের প্রতিফলন ইত্যাদি ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রশাসন জনসংযোগ ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিতে থাকে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস যে দায়িত্ব বর্তমানে সাধারণভাবে পালন করে থাকে তা হলো, জনসংযোগ দপ্তর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যে কোনো ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থা করে। আরও দায়িত্ব হলো- নববর্ষ, ঈদ, সমাবর্তন ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের নামে শুভেচ্ছা কার্ড মুদ্রণ ও বিতরণের ব্যবস্থা করা। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত সংবাদ, নিবন্ধ, সম্পাদকীয় ইত্যাদি চিহ্নিত করে পেপার কাটিং সংরক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত সংবাদের পেপার কাটিং নিয়মিত উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে প্রদান। ডায়েরি, একাডেমিক ক্যালেন্ডার, বিশ্ববিদ্যালয় বার্তা, বুলেটিন, ডেস্ক ও টেবিল ক্যালেন্ডার, দেয়াল ক্যালেন্ডার, বার্ষিক প্রতিবেদন ইত্যাদি মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিতরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষ্ঠানের স্থির ও অডিও ভিজুয়াল চিত্র ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। ভর্তি, নিয়োগ, দরপত্র বিজ্ঞপ্তিসহ বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন মুদ্রণের মাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যে কোনো অর্জনে শুভেচ্ছা বার্তা এবং মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রদান, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রকাশনায় ব্যবহারের জন্য উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বাণী ও বক্তব্য প্রস্তুতকরণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, ভুল তথ্য সংবলিত কোনো সংবাদ প্রকাশিত হলে সে সংবাদের প্রতিবাদ দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির জন্য জনসংযোগ দপ্তরকে সেসব কাজ করতে হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের জন্য জনসংযোগের উদ্যোগে কর্মশালার আয়োজনসহ আরও দায়িত্ব পালন করে থাকে।

তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, ই-মেইল, ইন্টারনেট, টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ওয়েব, ইউটিউব, ই-বুক, ওপেন এডুকেশন রিসোর্স, জুম, স্টিম ইয়ার্ড ইত্যাদি প্রযুক্তি কৌশলের চমৎকার ব্যবহার জনসংযোগের মাত্রা সোশ্যাল মিডিয়ায় অধিকতর বিস্তৃত হয়েছে। খুব সহজেই স্বল্প ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারস্পরিক তথ্যের আদান-প্রদান, প্রচারের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার ব্র্যান্ডিং দ্রুত বাড়ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জনসংযোগ অনেক শক্তিশালী হয়েছে। শিক্ষামেলা, বিজ্ঞানমেলা, গবেষণা পত্র, উপস্থাপন, কি-নোট, ডিসপ্লে, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, অ্যাডমিশন ফেয়ার, প্রযুক্তি মেলা, কর্মশালায় তথ্য বিতরণ, তথ্য বাতায়ন ইত্যাদি আবরণে জনসংযোগ এখন উচ্চশিক্ষায় খুব জরুরি অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। কভিড-১৯ অতিমারির কারণে প্রত্যক্ষ জনসংযোগের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জনসংযোগ এখন নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। জনসংযোগ কর্মীদের দিতে হচ্ছে দক্ষতার পরিচয়। দায়িত্ব পালনের পরিধি বিস্তৃতকরণের পাশাপাশি সংশ্নিষ্ট প্রত্যেককে গড়তে হচ্ছে চৌকস করে।

পরিচালক, তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়