ফরিদপুরের বিশিষ্ট সংস্কৃতজন, সাংবাদিক অরুণ বসুর নাগরিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাব ও ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের যৌথ উদ্যোগে ‘শোকস্মরণ ও স্মৃতি তর্পণ’ শিরোনামে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, স্বশিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন অরুণ বসু। মানুষকে ভালো না বাসলে যে ভালোবাসা পাওয়া যায় না এ শিক্ষা আমরা অরুণ বসুর কাছ থেকে পেয়েছি। এ সময় অরুণ বসুর স্বজনরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন ।

সভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস, ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এম এ সামাদ, ফুলকির সভানেত্রী অঞ্জলি বালা, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আজম, অরুণ বসুর বন্ধু নাট্য ব্যক্তিত্ব বিপ্লব বালা, অরুণ বসুর সহধর্মিনী কবিতা গোস্বামী, অরুণ বসুর ভাতিজা শংকর মজুমদার, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, ফরিদপুরের সংস্কৃতিকর্মী আহমেদ জালাল, বলাই দাস, সৈয়দ জুনায়েদ পারভেজ, আসমা আক্তার, আবুল বাতিন, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চক্রবর্ত্তী প্রমুখ।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বলেন, অরুণ বসুর মতো জ্ঞানী গুণি ব্যক্তির সংখ্যা আমাদের সমাজে কমে যাচ্ছে। অরুণ বসু প্রকৃত দেশপ্রেমিক ছিলেন। এ জন্যই তিনি দেশের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস বলেন, স্বশিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন অরুণ বসু। তিনি নিজের কথা ভাবতেন না, সমাজ ও দেশের কথা ভাবতেন। এজন্য ঘরের খোঁজ তিনি রাখতেন না। তিনি যা করেছেন সমাজের জন্য করে গেছেন।

মুসলিম মিশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ সামাদ বলেন, অরুণ বসুকে আমাদের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এজন্য তার উপর একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা জরুরি। কোনো সংগঠনে সবাই কাজ করেন না, কেউ কেউ করেন, অরুণ বসু তাদেরই একজন।

ফুলকির সভাপতি অঞ্জলি বালা বলেন, মানুষকে ভালো না বাসলে ভালোবাসা পাওয়া যায় না। অরুণ বসু মানুষকে ভালোবাসতেন বলেই তিনি মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছেন।

অরুণ বসুর স্ত্রী কবিতা গোস্বামী বলেন, অরুণ আমাকে বলতেন সব ভুলে যেতে। এ জগতে যে যত ভুলতে পারে সে তত বাঁচতে পারে। কিন্তু আমি কেন তার স্মৃতি ভুলতে পারছি না এক মুহূর্তের জন্যও। তিনি বাইরের মানুষ নিয়ে থাকতেন। বাহির ছিল তার ঘর। এ রকম একজন বাইরের লোককে ঘরে নিয়ে আসা বড় কঠিন। 

অনুষ্ঠানে ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি সারথি অরুণ বসু’ শীর্ষক নিজের লেখা পাঠ করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব বিপ্লব বালা। এরপর অরুণ বসুর আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অরুণ বসুর প্রিয় শিল্পী জন্মান্ধ সমাপ্তি রায়ের ‘আমাদের প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’ এবং শেষেও তার ‘এমন মানব জনম আর কি হবে’ গানের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি হয়।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও  প্রথমা প্রকাশনার সমন্বয়ক অরুণ বসু (৬৮) গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা কালিদাস বসু ও অমিয়া বসুর প্রথম সন্তান।