বিরক্তির জন্য বউ নয়, চিরসাথীর জন্য বউ, পরিপূর্ণতার জন্য বউ- সম্প্রতি বউয়ের এ সংজ্ঞা বহু মানুষের মনে ধরেছে। বউ বলতে বিবাহিত স্ত্রীকেই বোঝায়। কিন্তু প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে, বিরক্তির সঙ্গে কেন বউয়ের নাম জুড়তে হচ্ছে?

বেশ কিছু কমরেড জানালেন, বউ প্রচণ্ড বিরক্তিকর, প্রতিটি মুহূর্তের জেরার চোটে, বউকে ভালো লাগে না মোটে। জীবনে পরিপূর্ণতা তো দূরের কথা, বেঁচে থাকতে দেবে কিনা, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই! পরিপূর্ণতা!

আমার এক বন্ধু আছে, যে প্রতিটি কথায় তর্ক-বিতর্ক জুড়ে দেয়। ওকে দেখলেই সবাই ওকে জাতীয় বিতর্ক বলে সম্বোধন করে। এই জাতীয় বিতর্ক বন্ধুটির অনৈতিক সম্পর্কের পরম দোষ রয়েছে। ফলে স্ত্রীর সাথে ঠোকাঠুকি লাগবেই। আর ওর ধারণা- পুরুষ মানুষ শ্বানের মতো, খোলা খাবার দেখলে মুখ দেবেই। এতে দোষের কিছু দেখি না। ভালো কথা, তাহলে তোমার বিবাহিত স্ত্রী যদি তোমার মতো উদার হন, বগলে পাটি নিয়ে ঘোরেন, কাউকে 'না' বলতে পারেন না, তখন তোমার কেমন লাগবে? জাতীয় বিতর্ক চেঁচিয়ে উঠল, তাহলে তো এটা ব্যভিচারে পরিণত হবে। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। সব দোষ কেবল নারীকুলের? তা কি হয়? পুরুষের কি তাহলে কোনো দোষ নেই? আছে। পুরুষেরও দোষ আছে। তুমি সাক্ষী রেখে দলিলে সই করে স্ত্রীকে বরণ করছ। তার কিছুদিন পরেই তোমার কথা ভুলে, তোমার দলিলের দস্তখত ভুলে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে, আর বলে বসলে, 'ফ্রেইলটি দাই নেম ইজ ওম্যান'। আরে বাবা, যে কথা তুমি আমল করতে পারবে না, সে কথা দাও কেন? দরকার হলে বিয়ে দেরিতে কর। ভুলে গেলে- মরদ কি বাত, হাতি কি দাঁত। বিয়ের পর তুমি যদি তোমার কথা পালন কর, পরনারীতে আকৃষ্ট না হও তাহলে দেখবে তোমার বউ তোমার পরিপূর্ণতার চিরসাথী হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের এই এক সমস্যা। তারা নিজের ইচ্ছামতো বিয়ে করবে। ইচ্ছামতো বিয়ে করবে ভালো কথা, কিন্তু বিয়ে মানে কী জানো? পরিণয় মানে বোঝো? একই ব্যক্তির সাথে সারাজীবন একই ছাদের নিচে বসবাস। দিনের পর দিন বছরের পর বছর। আরে বউটার রুচি কেমন, কী খেতে ভালোবাসে, কী গান শোনে, কোন টিভির কোন সিরিয়াল ওর পছন্দ, তা জানবে না! আবার লোকটা বা কেমন, মেয়েদের সম্মান করে, নাকি চাকরানি দাসীর মতো ব্যবহার করে, এ সবকিছু না জেনে শাদি করতে নেচে উঠলে! ভাইরে ম্যারেজ ম্যারেজ করে যে নেচে উঠলে, কিন্তু বাবু কি ভালো মানুষ, নাকি কেবল নিজেরটাই ষোলো আনা বোঝে। তাহলে এত যে নিকাহর জন্য নাচলে, ফলাফল কী? হতাশা! বাবা, বিবাহ বিবাহ করলেই হলো। তুমি শুনবে গোলাম আলীর ঠুংরি 'কা কারু সাজনি, আয়ে না বালম...।' স্যার শোনে, ফাইট্টা যায় বুকটা ফাইট্টা যায়... হবে! এই নিকাহ কি টিকবে!

তাই বলি, ছাদনাতলা কোনো ছেলের হাতের মোয়া না। কবুল বুঝে-শুনে বলতে হয়। খ্রিষ্টের জন্মের ৪০০ বছর আগে, বাৎস্যায়ন কামসূত্রে লিখেছিলেন- পৃথিবীতে নারী হলো চার প্রকার। পদ্মিনী, চিত্রিণী, শঙ্খিনী আর হস্তিনী। কোন নারী কেমন তোমার জানতে হবে না? কোন পুরুষ কেমন- না বুঝে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেই হলো! বাবা বিয়ে কোনো ইমোশনের ব্যাপার না; পুরো বাস্তবনিষ্ঠ বিষয়। শাদি করার আগে বহু অঙ্ক কষে ক্যালকুলেটর টিপে তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন। তাই বলি, বিয়ে বুঝে করিস বাবা, খামাখা ইমোশনাল হোস নে। বিবাহ ইজ নট এ ছেলেখেলা। বাড়ির বড়দের বুদ্ধি নিয়েই বিয়ে করা উচিত। তাহলেই বউ আর তোমার জীবনে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠবে না। বউ হয়ে উঠবে তোমার জীবনের পরিপূর্ণতার চিরসাথী। তখন তুমি বলবে, 'বিরক্তির জন্য বউ নয়, চিরসাথীর জন্য বউ, পরিপূর্ণতার জন্য বউ।'

জাঁ নেসার ওসমান :চলচ্চিত্র নির্মাতা, রম্য লেখক