ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

রপ্তানিমুখী কৃষির সম্ভাবনা

অন্যদৃষ্টি

রপ্তানিমুখী কৃষির সম্ভাবনা

.

মোহাম্মদ মিজানুল হক কাজল

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৫৯

সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ওতপ্রোতভাবে কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমান কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা (বীজ, সার ও সেচ), উন্নত গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষকের দ্বারপ্রান্তে কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদনশীলতা ও মোট উৎপাদন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এর ফলে খোরপোশ কৃষি বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। কৃষকরা প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল আবাদ করছেন। ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন শাকসবজি ও ফলমূল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন  কোম্পানি কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করছে। 

কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি হলেও এর পরিমাণ ও আর্থিক মূল্যমান মোট রপ্তানির উল্লেখযোগ্য নয়; যদিও ক্রমান্বয়ে তা বাড়ছে। কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন পণ্য যুক্ত হচ্ছে এবং প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যও রপ্তানির তালিকায় অধিকহারে যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে নানাবিধ কৃষিপণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এরমধ্যে পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চা পাতা, আম, কাঁঠাল, লেবু, লিচু, লটকন, ফুড স্টাফ প্রভৃতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে এবং রপ্তানির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শাকসবজি এগিয়ে রয়েছে। তবে ফলমূলও রপ্তানির ক্ষেত্রে আগামী দিনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।  

বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতার, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও নেপালে সবজি রপ্তানি হয়। কাতার, ভারত, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, সৌদি আরব ও অস্ট্রেলিয়ায় ফল রপ্তানি হয়। অন্যান্য দেশের রপ্তানির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ এখনও কৃষিপণ্য রপ্তানির বাজারে উল্লেখযোগ্য হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেনি। 
কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনার পাশাপাশি অনেক প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। পণ্য রপ্তানির জন্য অনেক সময় বিমানে পর্যাপ্ত জায়গা মেলে না। এছাড়াও বিভিন্ন পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগারের অভাব, বিমানবন্দরে হিমাগারের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকা, বিভিন্ন কৃষিপণ্যের কাঙ্ক্ষিত জাতের অভাব এসব বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি আমদানিকারক দেশগুলোয় কী কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ নতুন নতুন বাজার অন্বেষণ করা দরকার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শাকসবজি, ফলমূল ও আলু রপ্তানি বাড়ানোর জন্য রোডম্যাপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মানসম্পন্ন ও নিরাপদ সবজি ও ফল উৎপাদন, শ্যামপুরের প্যাক হাউসের কার্যকর ব্যবহার, বিমানে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে জায়গা বাড়ানো, কৃষিপণ্যের জন্য বিমানবন্দরে পৃথক গেট ও স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করা, বিমানবন্দরে কোল্ডস্টোরেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা বৃদ্ধি, পণ্য রপ্তানির জন্য প্যাকেজিংয়ের মান বৃদ্ধি, আলুর উন্নত জাতের সরবরাহ বৃদ্ধি, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা বৃদ্ধি, দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার তৈরি ইত্যাদি বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী কৃষিশিল্প বিকাশের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে।

ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক কাজল: অধ্যাপক, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পোভার্টি স্টাডিজ বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×