বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির স্থলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। যে দেশে বহু বছর খুন-রাহাজানির কোনো বিচার হতো না, সেই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। এই বাংলাদেশে খুনিরা বছরের পর বছর প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াতো, খুনিদের বিরুদ্ধে কেউ আদালতে স্বাক্ষ্য দিতে সাহস পেতেন না! রাষ্ট্রপক্ষের আন্তরিকতার অভাবে বছরের পর বছর মমলা ঝুলে থাকতো, সেই বাংলাদেশে আজ প্রতিটি খুনের বিচার হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকারের আন্তরিকতার কারণে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে খুন করে কেউ রেহাই পায়নি। খুনি যত শক্তিশালীই হোক, তার ক্ষমা নেই। জিয়া-মোশতাকরাই বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করেছিল। খুনিরা শুধু বিচার থেকে রেহাই পায়নি, তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, পুরস্কৃত করেছিল। 

বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে খুনের অপরাধে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানকেও জাতির পিতা ক্ষমা করেননি। তারও বিচার হয়েছিল। অথচ অবৈধ শাসক জেনারেল জিয়া ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জেল থেকে মুক্ত করেছিল। 

সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার বিচার জিয়া-মোশতাক আইন করে বন্ধ রেখেছিলো। তারা দু'জনই এই হত্যাকাণ্ডের মূল মন্ত্রণাদাতা। জাতির পিতাকে হত্যার বিচার বন্ধে জারি করা 'ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স' নামে নির্মম ও অসভ্য আইন বাতিলে অনেক আন্দোলন হয়েছে নব্বইয়ের দশকে। কিন্তু খালেদা জিয়ার সরকার এই আইনে বাতিল করতে দেয়নি। যারা আজ বাংলাদেশে আইনের শাসন আর ন্যায় বিচার নিয়ে কথা বলেন, তারা কি ভুলে গেছেন, এদেশে সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার বিচার চেয়ে থানায় মামলা করা যায়নি দীর্ঘ ২১ বছর।

জিয়ার শাসনামলে অনেক সেনা সদস্যকে প্রহসনমূলক বিচারে হত্যা করা হয়। অনেক মানুষকে গুম করা হয়। সেই হত্যা ও গুমের বিচার হয়নি। তাদের পরিবার স্বজনরা আজও কাঁদেন। সংবিধান স্থগিত করে দেশের প্রচলিত আদালত স্থগিত রেখে জেলায় জেলায় মার্শাল ল কোর্ট স্থাপন করে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়। পরবর্তী সময়ে পঞ্চম সংশোধনীতে তাদের এসব অবৈধ ও অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হলো। 

জেনারেল এরশাদের আমলেও সত্যিকার অর্থে ন্যায় বিচার ছিল না। তবে জিয়ার আমলের মতো নির্মম অবস্থা ছিল না। খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। উত্তরবঙ্গে ইয়াসমিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। খালেদা জিয়ার ওই মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রীতিমতো খুনের উৎসব হয়েছিল। চুন্নু, রাজু, মামুন, মাহমুদ, গালিব, লিটন, মাহবুব, মিজান, আলোকসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খুন হন। এসব হত্যাকাণ্ডে খালেদা জিয়ার সরকারের লোকজন জড়িত ছিল। তাই এসবের কোনো বিচার হয়নি। 

খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদে সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের হত্যায় অভিযান শুরু হয়েছিল। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসানুল্লাহ মাস্টার, নাটোরের নেতা মমতাজসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০০১ এর নির্বাচনের পর সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষকে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। ২১ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসহ পুরো আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। বহু মানুষ গ্রেনেড হামলায় আহত হন। খালেদা জিয়ার ওই আমলে 'অপারেশন ক্লিন হার্টে' অনেক মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়।  পরবর্তী সময়ে বিশেষ আইনের মাধ্যমে ওই অপারেশনে যুক্ত সবাইকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল। বুয়েট ছাত্রী সনিকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে গুলি করে মারলো। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার খালেদা জিয়ার সরকার করেনি। কারণ এসব হত্যাকাণ্ডে খালেদা জিয়ার সরকারের নগ্ন পৃষ্টপোষকতা ছিল।

শেখ হাসিনার সরকারের সময় সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো খুনি বা অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যাকাণ্ডে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড  হয়েছে। পুরান ঢাকার বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এভাবে শেখ হাসিনার সরকারের সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে।  অপরাধী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তাকে বিচারের আওতায় আসতেই হবে। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শনে অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তার একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী- খুনি। তার বিচার হবেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ন্যায় বিচারে বিশ্বাসী, আইনের শাসনে বিশ্বাসী। সর্বশেষ মেজর অব. সিনহা হত্যা মামলার রায়ে এটি আবার প্রতিষ্ঠিত হলো। খুনের দায়ে কর্মরত একজন ওসি এবং পরিদর্শককে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। বাংলাদেশে আইনের শাসনের ইতিহাসে এটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।