একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কর্মরত অবস্থায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ডা. শামসুদ্দিন আহমদ ও ডা. শ্যামল কান্তি লালাসহ ৯ এপ্রিলের সব শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার গণহত্যা দিবসে নগরীর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই দাবি জানান। দুপুরে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, শামসুদ্দিন আহমদের কবর জিয়ারত ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এসময় শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালের অধীক্ষক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান ভুইয়া, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. খালেদ মাহমুদ, ডা. মো. আব্দুল কাইয়ূমসহ চিকিৎসক, নার্সিং ও অন্যান্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাদ যোহর হাসপাতালের মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে নাগরিক মৈত্রী, কিডনি ফাউন্ডেশন, বাপা, ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে গণহত্যা দিবসে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

সকাল ১১টার দিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘ডা. শামসুদ্দিন আহমদ, ডা. শ্যামল কান্তি লালসহ অন্যানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সে সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। এ সময় তারা ব্লাড ব্যাংকের পাশাপাশি তৈরি করেছিলেন বিশেষ মেডিকেল টিম। ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল হাসপাতালে আক্রমণ করে পাকিস্তানি হানাদান বাহিনী নৃশংসভাবে ৭ জনকে হত্যা করে। ইতিহাসে এটি প্রথম কোনো হত্যাকাণ্ড যেখানে কর্তব্যরত অবস্থায় চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫১ বছর পরও স্বীকৃতি পাননি অকুতোভয় সেই মানবতার যোদ্ধারা।’

নাগরিক মৈত্রীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সমর বিজয় সী শেখরের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিমের পরিচালনায় পুষ্পস্তবক অর্পণের আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাভভোকেট এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল-আজাদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট বিভাগের সমস্বয়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, কিডনী ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর ফরিদা নাসরিন, ডা. নাজরা চৌধুরী, সুমন বাসিত, মুহিবুর রহমান, যুব ইউনিয়ন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন দাস খোকন, প্রভাষক রাজীব চৌধুরী, অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি দীপঙ্কর সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান প্রান্তিক, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুল আলম নাসির প্রমুখ।