আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ। বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষায় দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সুনাম বাড়িয়ে চলছে। নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অর্পিত দায়িত্ব পালন করে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা।

বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৪৩টি দেশের ৫৫টি শান্তিরক্ষা মিশনে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৭৮ জন শান্তিরক্ষী পাঠিয়ে জাতিসংঘের ইতিহাসে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রতি বছরের ২৯ মে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এবার 'জনগণের অংশীদারিত্বেই শান্তি ও সমৃদ্ধি' এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেছেন, জাতির পিতার অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে শান্তি ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

দিবসটি উপলক্ষে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সব শান্তিরক্ষীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বিশ্বশান্তি রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষী সদস্যদের তিনি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে অদ্যাবধি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারি মনোভাব, আনুগত্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন, এজন্য সরকারের সব প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আজ সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। জাতিসংঘ মিশন এবং বহুজাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অনন্য অবদান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং এ দেশকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে শান্তিরক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে যে গৌরব ও মর্যাদা লাভ করেছে, তা আমাদের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য পেশাদারিত্ব, সাহস, বীরত্ব ও দক্ষতারই অর্জিত ফসল।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৩৯ জন এবং পুলিশ বাহিনীর ২২ জন সদস্য শাহাদাতবরণ করেন। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর ২৪০ জন এবং পুলিশের ১২ সদস্য দায়িত্ব পালনকালে আহত হন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ৯টি মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর ৬ হাজার ৩২৪ জন এবং পুলিশ বাহিনীর ৫০১ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ৩৭১ নারী সদস্য ও পুলিশের ১৪৮ জন নারী সদস্য শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন।

কর্মসূচি: আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আজ রোববার সকালে শান্তিরক্ষীদের স্মরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। আইনমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে সকালে 'শান্তিরক্ষী দৌড়-২০২২' অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। একই দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় এবং আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভিটিসির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।