বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বা কারসাজি থাকলে সে বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। বুধবার রাজধানীর ইস্কাটন রোডে সংস্থাটির কার্যালয়ে 'প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকা' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই আহ্বান জানান।
মফিজুল ইসলাম বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ড বা কারসাজি চোখে পড়লে তা যে কেউ কমিশনকে জানাতে পারবেন। তিনি বলেন, বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকলে একদিকে যেমন উৎপাদক, ব্যবসায়ী, ভোক্তাসহ সবাই ন্যায্য দামে পণ্য ও সেবা পাবেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশের পণ্য ও সেবার ভাবমূর্তি বাড়বে। তা ছাড়া সুস্থ প্রতিযোগিতা না থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ কমে যাবে। ফলে কর্মসংস্থানের পরিধিও ছোট হয়ে আসবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্য ও সেবার অবস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে বৈষম্য ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ীর কর্তৃত্বময় অবস্থান প্রতিরোধ করে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে কমিশনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশীয় শিল্প ও উৎপাদনকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ আমদানিনির্ভরতা বেড়ে গেলে ভোজ্যতেলের মতো সমস্যায় পড়তে হবে। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ-সংক্রান্তু আইন বাস্তবায়নে সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, চাল, তেলসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা চলে যাচ্ছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের দখলে। ব্যবসাগুলো নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর কাছে চলে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কী করা যায়, তা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে।
টেকসই উন্নয়নে কমিশনের ভূমিকা, প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, সংস্থার কাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রতিবেদন উপস্থান করেন কমিশনের সদস্য জি এম সালেহ উদ্দিন।