ধূমপায়ী সংখ্যার হার অনুযায়ী ২০২২ সালে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। বাংলাদেশে ধূমপায়ীর হার ৩৯.১০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে ৩৯ জন ধূমপান করছে আমাদের দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর ৮০ লাখ মানুষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুবরণ করে। আর আমাদের দেশে এ সংখ্যাটা প্রায় দেড় লাখ। ধূমপানের কারণে ধেয়ে আসা নিশ্চিত বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নিউইয়র্ক শহরের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। ধূমপানবিরোধী কাজের জন্য মাইকেল ব্লুমবার্গ তামাকশিল্পের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ২০০৮ সালে মাইকেল ব্লুমবার্গের 'দ্য ওয়ে টু সেভ মিলিয়নস অব লাইভস ইজ টু প্রিভেন্ট স্মোকিং' একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয় নিউজউইক সাময়িকীর প্রিন্ট সংস্করণে। এ নিবন্ধটিতে তিনি বলেন, '২০০২ সালে আমি কর্মক্ষেত্রে ধূমপান নিষিদ্ধকরণ আইনে স্বাক্ষর করি। ব্যাপক হইচই সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কিন্তু এ জন্য আমাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানায়। এর কিছুদিনের মধ্যেই ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, আয়ারল্যান্ডেও এ আইনের প্রয়োগ শুরু হয়।

পাশাপাশি সিগারেটের ওপর ট্যাপ বাড়ানো হয় এবং ধূমপানবিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। ফলে দেখা গেছে, সেখানে ধূমপানের হার কমে গেছে শতকরা ২১ ভাগ। আর কিশোর ধূমপায়ীর সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধেকে।'

পরবর্তীকালে মাইকেল ব্লুমবার্গ ও তাঁর সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা মিলে ছয়টি কর্মকৌশল নির্ধারণ করেন। অনেক দেশই এই কর্মকৌশলগুলো বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে মেপিকো, তুরস্ক ও চীন সরকার এর প্রয়োগ শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারও ধূমপানের ফলে ক্রমে ধেয়ে আসা মহামারি ঠেকাতে তৎপর হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশেও ধূমপান ঠেকাতে ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তে জাতি নিঃসন্দেহে উপকৃত হবে।

ধূপমান বর্জনের অন্যতম উপায় হলো মেডিটেশন। মেডিটেশনের মাধ্যমে সিগারেট ছাড়তে পারেন ধূমপায়ীরা। নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করলে মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সহজ হয়, জাগ্রত হয় ইতিবাচক শক্তি। তখন যে কোনো কাজ অনুসরণ বা বর্জন করাটা অনেক সহজ হয়। ধূমপান বর্জনের উপায় সেই মেডিটেশনের ওপর আমাদের দেশে কর আরোপের কথা হচ্ছে। অর্থাৎ একজন ধূমপায়ী যদি ধূপমান ছেড়ে দেওয়ার জন্য মেডিটেশন চর্চা করে, তবে তাকে গুনতে হবে ভ্যাট। এটা কী তার সিগারেট ছাড়ার আগ্রহকে একটু হলেও মিইয়ে দেবে না?

শীর্ষ ১০ ধূমপায়ীর দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান মোটেও কাম্য নয়। ধূমপানের স্বাস্থ্যঘাতী দিকগুলো সম্বন্ধে এখন আধুনিক মানুষ মাত্রই সচেতন। এখন শুধু জানলেই হবে না, ফল পেতে হলে তা মেনে চলতে হবে। তাই ধূমপান ত্যাগে সচেতনতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইচ্ছাশক্তি। আর নিয়মিত মেডিটেশন চর্চায় সৃষ্টি হয় সেই আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি। ফলে ধূমপানের মতো বদভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়। আমাদের দেশেই মেডিটেশনের সাহায্য নিয়ে অনেকে ধূমপান ত্যাগ করেছেন। এমন উদাহরণ অসংখ্য। এ অবস্থায় মেডিটেশনের ওপর ভ্যাট আরোপ প্রমাণিত হবে, ধূপমান ছাড়তে ভ্যাট দেওয়ার মতোই অমূলক। তাই স্বাস্থ্যসেবার পরিপূরক হিসেবে মেডিটেশনের ওপর থেকে চিরস্থায়ী ভ্যাট মওকুফ এখন সময়ের দাবি। আশা করি, বাজেট-সংক্রান্ত সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভেবে দেখবেন।