সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কয়েক দশকে সুনামগঞ্জের মানুষ এ রকম বন্যা দেখেনি। কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই তাদেরকে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হয়েছে। কেউ আবার যাওয়ার সময়টুকুও পায়নি; চোখের সামনেই নিজেদের বাড়িঘর ভেঙে পড়তে দেখেছে। আশ্রয়-সহায়-সম্বলহীন একেকজন মানুষের অসহায় অবস্থার চিত্র পুরোপুরি আমরা কখনোই অনুধাবন করতে পারব না নিজ চোখে না দেখলে। দেখলেও তাদের সমস্যা কতটা গভীরে, তা অনুধাবনের সাধ্য আমাদের নেই।
বন্যার্ত এলাকায় অনেকেই ছুটে গেছেন জরুরি খাদ্য সহায়তা নিয়ে। ওই মুহূর্তে এর চেয়ে জরুরি আর কিছুই ছিল না। বেঁচে থাকতে হলে সবকিছুর আগে খাদ্য দরকার। সঙ্গে খাবার পানি, স্যালাইনও দিয়েছেন অনেকে। যখন কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়; বেশি প্রয়োজন হয় খাদ্য ও পানীয়। তবে এর মধ্যে শিশুখাদ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় এনে সেই ব্যবস্থা করাও জরুরি। কেউ কেউ শিশুদের জন্য গুঁড়া দুধ, বিস্কুট ইত্যাদি সরবরাহ করেছেন।
প্রায় একই সঙ্গে জরুরি হলো বন্যার্ত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। ওই সময়ে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে মানুষ। পানিতে সব এলাকা ডুবে যাওয়ার কারণে স্বভাবতই নিজ ও দূর থেকে ভেসে আসা অন্য এলাকার ময়লা-আবর্জনা, মরা পশু-পাখি, ড্রেন, নর্দমার আবর্জনাসহ সবকিছু ভেসে আসে। আর এসব পানির মধ্যেই বন্যার্তদের চলাফেরা। প্রয়োজনে সেই পানি খাওয়া ও ব্যবহারও করতে হয়। এতে একই সময়ে খাদ্য ও বসবাসে সংকটের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা যায়। নানা রকম চর্মরোগ, কলেরা, টাইফয়েড, ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ নানা রোগবালাই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিপদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন। এমনকি হাতের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায় না। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তিও ক্রমে হারিয়ে ফেলে তারা। যারা আগে থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত ছিল, তাদের এ সময়ে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তাই দুর্যোগকবলিত এলাকার জন্য আমাদের টেকসই চিন্তাভাবনা করা দরকার।
ঢাকা

বিষয় : বন্যায় স্বাস্থ্যঝুঁকি

মন্তব্য করুন