সম্প্রতি ওষুধের দাম বেড়েছে। ১০ টাকার ওষুধের দাম ১৫ টাকা। ৫৫ টাকার ১০টি ট্যাবলেটের মূল্য বর্তমানে ৭৫ টাকা। প্রায় সব ধরনের ওষুধের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত মানুষের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু যেভাবে কোনো কোনো ওষুধের দাম দ্বিগুণ করা হয়েছে, তা অন্যায়। জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবায় বহুলভাবে ব্যবহূত ৫৩ ধরনের ওষুধের দাম বাড়িয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
এ কথা সত্য, ওষুধ রপ্তানিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। রপ্তানি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ১৫১টি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করছে। দেশের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি হয় বলে জানা যায়। এটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক এবং ইতিবাচক একটি সংবাদ। দুঃখের সংবাদ হচ্ছে, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা হয়, যা রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
এর আগে ২৩ প্রকারের ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবার বাড়ানো হয়েছে ৫৩ ধরনের ওষুধের দাম। যেখানে বিদেশের বাজারে ওষুধ রপ্তানি করে বাংলাদেশ কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, সেখানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ওষুধ কিনে খাওয়ার সমস্যায় ভুগবে, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ঔষধ প্রশাসনকে অবশ্যই সাধারণ জনগণের কথা মাথায় রেখে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
সাধারণ মানুষের আয়ের কথা চিন্তা করে অপরাপর প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মতো ওষুধের বাজারমূল্য অবশ্যই তাদের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। সরকারকে অনুরোধ করব, চিকিৎসা এবং ন্যায্যমূল্যে ওষুধ সরবরাহ ও প্রাপ্তিতে যেন জনগণের কথা চিন্তা করা হয়। সঙ্গে ভেজাল, মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যাঁরা উৎপাদন ও বিক্রি করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্যই সুখের মূল। সুন্দর জাতি সুস্থ জাতি দেশের সম্পদ- এ প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জনমতের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনা করতে হবে।
চট্টগ্রাম
mh.hoqueansari@gmail.com

বিষয় : মাহমুদুল হক আনসারী

মন্তব্য করুন