১৯ আগস্ট সমকালের সম্পাদকীয় পাতায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার দুই বছর নির্ধারণ নিয়ে নিবন্ধ লিখেছেন মাহফুজুর রহমান মানিক। তিনি যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সে প্রস্তুতি নিয়ে ২ বছরের প্রাক-প্রাথমিক হতে পারে। একই সঙ্গে বলার বিষয়, নতুন শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে। সে জন্য অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে শিক্ষার মানোন্নয়নে। বর্তমানে বাংলাদেশে তিন স্তরবিশিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা। সেই ইয়াদালীর পাঠশালা থেকে শুরু করে অদ্যাবদি প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা চলমান। শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠ্যক্রম, কারিকুলাম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আলোচনা ও গবেষণা চলমান এবং ধীরে ধীরে তা সবদিক দিয়ে যুগোপযোগী ও সার্বিক উন্নয়নের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। যুগ যুগ ধরে শিক্ষা বিষয়ে অনেক কমিশন গঠিত হয়েছে, যার অধিকাংশ আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান সময়ের প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমান করার লক্ষ্যে প্রি-প্রাইমারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি পাঠদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলায় একটি কিংবা দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক। অধিকন্তু ১০০ শতাংশ উপবৃত্তির আওতাভুক্ত। এখনকার সময়ে শিক্ষক নিয়োগ-পদ্ধতি অত্যন্ত বাস্তব ও যুগোপযোগী। এতে বড় বড় বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। তাদের চোখে-মুখে থাকে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষিত ও মেধাবী জাতি গঠন। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির প্রতিটি বিষয়ই শিক্ষাদানে তাঁরা স্বস্তি বোধ করেন। তাঁদের শিক্ষা মেধা কিছুটা হলেও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। এতে তাঁরা মানসিকভাবে আনন্দ পাবেন এবং শিক্ষার্থী তথা জাতিও উপকৃত হবে। শিক্ষার বিষয়গুলো সর্বদা পরিবর্ধন, পরিমার্জন, পরিবর্তনশীল ও গবেষণার বিষয়।
জেএসসি পরীক্ষার ফলে দেখা যায়, কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় সরকারি নিম্নমাধ্যমিক কোনো অংশে কম নয়। সরকার এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে নিঃসন্দেহে জনগণ যেমন সুবিধা লাভ করবে, তেমনি দেশ ও জাতি শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করলে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে এবং বড় অঙ্কের শিশু ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পাবে।
প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, তেরশ্রী ডিগ্রি কলেজ, ঘিওর, মানিকগঞ্জ