সাধারণ মানুষের সময়ের সঙ্গে অসহায়ত্বের চিত্র ভারি হয়ে উঠছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির দাম। ৭ আগস্ট সমকালের সম্পাদকীয় ও মতামত পাতায় সবুজ ইউনুসের 'সাধারণ মানুষ এই চাপ সইবে কীভাবে' শিরোনামে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেছেন, সাধারণ মানুষ সংসারের ব্যয়ভার বহনে হিমশিম খাচ্ছেন, কেউ বা সঞ্চয় ভাঙিয়ে চলছেন। ওই লেখার সঙ্গে সহমত পোষণ করি। ১০ বছর আগে ছোট সাইজের টুথপেস্টের দাম ছিল ১৩ টাকা, যা বর্তমানে ৪৫ টাকা। কয়েক দিন আগেও প্রতি পিস পরোটার দাম ৫ টাকা ছিল, যা এখন এক লাফে ১০ টাকা হয়েছে। প্রতি বস্তা আটার দাম নিশ্চয়ই এক লাফে দ্বিগুণ হয়নি। এসব বিষয়ে তদারিক নেই বললেই চলে। বিগত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে; সাধারণ মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। দৈনন্দিন ব্যয়ভারের চাপ সইতে না পেরে অনেকেই শহর ছেড়েছেন। রাজধানীতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে বাঁচার পথ ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে আসছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে আমাদের দেশেও দাম বাড়ে। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমলে তার সুফল আমরা তেমন পাই না।
একটা সময় ছিল বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল বাড়ির মালিকরা দিতেন। বর্তমানে তা আর হচ্ছে না। সব বিলের বোঝা ভাড়াটিয়ার কাঁধে। সুতরাং কোনো কিছুর দাম বৃদ্ধিতে বাড়িওয়ালার কোনো সমস্যা না হলেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে সাধারণ মানুষের কপালে। তার মধ্যে প্রতিবছর বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর ফাঁদ তো রয়েছেই। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানাভাবে প্রভাব ফেলছে। বাস্তবচিত্র হলো এমন- যেখানে খাগড়াছড়ির ভাড়া ৬২০ টাকা (নন-এসি) ছিল, সেখানে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ টাকা, যা পরিবহনভেদে ৮০০-৮৫০ টাকা। এর ফলে পর্যটকরা ভ্রমণে যেমন নিরুৎসাহিত হবেন, সাধারণ মানুষও বিনোদনে আগ্রহ হারাবেন। মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হলো চিত্তবিনোদন। সেই পথও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানির দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য বিলম্ব না করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
সদস্য, বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন
habibwahid.inbox@gmail.com