প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল ২৪ নভেম্বর দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। চলমান প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তের কথা গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে জানিয়েছিলেন। এ খবর দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হয়েছিল। পরে দেশের ৬১ জেলাকে ভাগ করে তিন ধাপে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্নম্ন করে সে অনুপাতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রার্থীও পাস করানো হয়। দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় কর্তৃপক্ষ থেকে এত দিন শিক্ষক নিয়োগে পদসংখ্যা বাড়ানোর কথাই বলা হচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে এসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৩২ হাজার ৫৭৭ পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ কেন পদসংখ্যা কমানো হচ্ছে, সে কারণ অজানা। এ বছরের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও খুশি ছিলেন। তাই ভাবা হচ্ছিল, এ বছর অধিক সংখ্যক যোগ্য ও মেধাবীরা প্রাথমিকের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করবেন। যদিও কোটার বেড়াজালে তার শতভাগ নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। কথা হলো, যদি ৩২ হাজার শিক্ষকই নিয়োগ দেওয়া হবে, তাহলে কেন এত সংখ্যক প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানো হলো? তিন ধাপের লিখিত পরীক্ষায় মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ প্রার্থীকে পাস করানোর ফলে লিখিত পরীক্ষায় অনেকে কম নম্বর পেয়েও পাস করে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বড় একটা অংশ কোটাধারী। শেষ মুহূর্তে এসে শিক্ষক নিয়োগের পদসংখ্যা কমালেও কম নম্বর পেয়ে লিখিত পাস করা কোটাধারীর কোটায় চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কমবে না। স্বাভাবিকভাবেই চূড়ান্ত ফল তৈরির সময় কোটার বিধিমালা অনুসরণ করা হবে। এতে সাধারণ প্রার্থীদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যাবে। সাধারণ প্রার্থীদের মধ্যে যাঁদের নম্বর সর্বোচ্চ তাঁরাই শুধু চাকরি পাবেন। কিন্তু এর মধ্যে বড় একটা অংশ বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন স্থানে ভালো চাকরি নিশ্চিত করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা তুলনামূলক নিচের গ্রেডের প্রাথমিকে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করবেন না। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, যেন পূর্বঘোষিত পদসংখ্যা অনুযায়ী ৪৫ হাজার শিক্ষকই নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রকৃত মেধাবী এবং অধিকতর যোগ্যদের শিক্ষকতা পেশায় আসার সুযোগ দিন।
সিলেট

বিষয় : মেধাবীদের শিক্ষকতা

মন্তব্য করুন