ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ ছাড়া কানাডা ও মরক্কো থেকে ৮০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবের বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতি লিটার তেলের দাম পড়বে ১৫৬ টাকা ৯৮ পয়সা। এতে ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে কোন দেশ কিংবা কোম্পানির কাছ থেকে কেনা হবে, সে তথ্য দেওয়া হয়নি। এর আগে ৩ নভেম্বর টিসিবি স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন পায়। ওই লটে দাম ছিল প্রতি লিটার ১৬২ টাকা ৯৪ পয়সা।

কানাডা ও মরক্কো থেকে ৮০ হাজার টন এমওপি ও টিএসপি সার কেনার দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। সাঈদ মাহমুদ খান জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় কানাডা কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে নবম লটে ৫০ হাজার এমওপি সার আমদানি করবে। প্রতি টন ৬৫৯ দশমিক ৬৫ ডলার দরে এ সার ক্রয়ে ব্যয় হবে ৩৫৮ কোটি ৪৮ লাখ ১৩ হাজার ৯২৫ টাকা। এর আগের লটে একই সার কেনা হয় প্রতি টন ৭৭৮ দশমিক ১৫ ডলার দরে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি, এসএ থেকে দশম লটে বিএডিসির ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতি টন ৪৭৪ ডলার দরে এর জন্য ব্যয় হবে ১৫০ কোটি ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা। এর আগের লটে একই সার কেনা হয়েছিল প্রতি টন ৬৮৭ ডলার দরে।

বৈঠকে ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ডিএসআইপি) পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সাঈদ মাহমুদ খান বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ঢাকা ওয়াসার এ প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোরিয়ার দোহা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ৭০ কোটি ৭৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তিনি বলেন, একই প্রকল্পের আওতায় 'প্যাকেজ ডব্লিউডি-২'-এর নির্মাণে কাজ পেয়েছে যৌথভাবে চীনের সিসিইসিসি, সাফবন ও এসএমইডিআই। এতে খরচ হবে ৪২০ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। 'প্যাকেজ ডব্লিউডি-৩' নির্মাণে কাজ পেয়েছে যৌথভাবে ভারতের জিপসাম স্ট্রাকচারাল ইন্ডিয়া, খিলারি ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ইতালির ইমিট গ্রুপ।