আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ ঘটনা। পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে মাত্র কয়েকটি রাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের দেশকে স্বাধীন করেছে। বাংলাদেশ সেদিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে আছে। কারণ, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের অধিকার ও অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে বাঙালি জাতির। যদিও বিশ্বের মানচিত্রে খুব ক্ষুদ্র একটা দেশ এটা, দেশটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বলা হয় 'স্বাধীনতা যুদ্ধ' কিন্তু আমাদের সংগ্রামের নাম 'মুক্তিযুদ্ধ'। 'মুক্তি' কথাটা এখানে ফোরগ্রাউন্ডেড। এ মুক্তি আসলে কিসের মুক্তি, সেটার পরিচ্ছন্ন ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ মুক্তি সব পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করার মুক্তি, স্বাধীনভাবে নিজের মাটি, বায়ু প্রকৃতির স্বাদ আস্বাদনের মুক্তি, এ মুক্তি সব শোষণ, বঞ্চনা, অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি। এ মুক্তির স্বাদ বাঙালি আস্বাদন করতে চেয়েছে অনেক আগেই। তাদের মননে, মগজে, অন্তরে ছিল পরাধীনতা থেকে মুক্তি, শিকল থেকে মুক্তি, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, দৈহিক ও মনস্তাত্ত্বিক পীড়ন থেকে মুক্তি। যে মুক্তির জন্য এত সংগ্রাম, এত ত্যাগ, এত অপেক্ষা, সেই মুক্তি আসলে কতটা মিলেছে আমাদের? মুক্তিযুদ্ধ কথাটা এখন কেমন যেন রূপকথার গল্পের মতো হয়ে গেছে। এটা যেন ন্যারেটিভ এখন। যে যেমন পারছে বর্ণনা করে যাচ্ছে, উপস্থাপনার নানাবিধ রকম ও ধরনের মধ্যে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা মুশকিল বর্তমানে। 

নানামাত্রিক ব্যাখ্যা ও পরিবেশনার ভিড়ে তরুণ প্রজন্ম বিজয় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কতটুকু ধারণ ও লালন করতে পারছে, সেটা আশঙ্কার বিষয়। আমাদের প্রজন্মও খুব ছোট বয়সে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছে; বাবা, দাদার মুখে গল্প শুনে। পরে বইয়ে পড়েছি, নাটক, সিনেমাতে দেখেছি কী ভয়াবহ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের পূর্বপুরুষদের- যারা একটা কলোনিয়াল শোষণ থেকে বের হতে না হতেই আবার নতুন করে কলোনিয়াল শাসন দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছিল প্রতিনিয়ত। সব নিগ্রহ, শাসন ও নিপীড়ন থেকে মুক্তির জন্য উজ্জীবিত বাঙালি জীবন বাজি রেখে স্ম্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল দেশমাতৃকার মুক্তির দাবিতে। এই মুক্তিযুদ্ধের মতো ধ্রুব সত্যকে যারা নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন ন্যারেটিভ বানাতে পারে, তারা দেশকে নিয়ে কতটা ভাবে, সেটা প্রশ্নের দাবিদার অবশ্যই। দেখা যায়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পাল্টায় আর সময়ের বিবর্তনে সত্য ইতিহাস বিকৃত হতে হতে নিছক একটা তথ্যে রূপ নেয়, ফেয়ারি টেল হয়ে যায়। আর কয়েক প্রজন্ম পরে কি সেই নব্য প্রজন্মের অধিবাসীরা জানতে পারবে তাদের দেশ সৃষ্টির পেছনের সত্য ও ত্যাগের মহিমান্বিত ইতিহাস, সেটা আসলেই ভাবনার বিষয়! আমাদের সত্য ঘটনা নিয়ে ইতিহাসনির্ভর গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, ডকুমেন্টারি খুবই নগণ্য; যা আছে তা সর্বোচ্চ নয়। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পূর্ব ইতিহাস, এই স্বাধীন দেশের জন্মের ইতিহাস বিকৃত হতে হতে নানামাত্রিক গল্পে রূপ নিয়ে বিলীন হয়ে যাবে একদিন।

ভূমিষ্ঠ হয়েই একটা স্বাধীন দেশের নাগরিকের সুবিধা ভোগ করেছি। তাই হয়তো এর পেছনের ত্যাগ তিতিক্ষা আমাদের নাড়া দেয় কম। ঐ লাল সবুজ পতাকা যে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর বীরাঙ্গনা মায়েদের শাড়ির আঁচলে জড়ানো তা উপলব্ধি করতে পারি না অনেকেই। দেশের মানচিত্র আর জাতীয় সংগীতের পেছনে কত মানুষের অবদান লুকায়িত তা বোঝার ক্ষমতা অনেকেরই নেই। কারণ, আবার সেই ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ঘাটতি ও ত্রুটি। বিদেশি সংস্কৃতি আর মিডিয়া উপস্থাপনা আমাদের একটা হাইপাররিয়েল জগতের বাসিন্দা বানিয়ে দিয়েছে। আমরা আজ ভার্চুয়াল জগৎকেই নিজেদের অস্তিত্ব বানিয়ে ফেলেছি। একটা ভালো বই পড়া, ইতিহাস সম্পর্কে জানা, সমাজের ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে প্রশ্ন করা, মননশীলতার চর্চা কদাচিৎ করে মানুষ। বর্তমান প্রজন্মের কতজন 'হাঙর নদী গ্রেনেড', 'ওরা এগারোজন', 'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী', 'আগুনের পরশমণি', 'স্টপ জেনোসাইড', 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' দেখেছে তাতে সন্দেহ বিরাজমান। কিন্তু হলিউড, বলিউডের নতুন সিনেমা, নায়ক-নায়িকাদের পেশাগত, ব্যক্তিগত তথ্য কিছুই তাদের অজানা হয়। কতজন 'আরেক ফাল্কগ্দুন', 'চিলেকোঠার সেপাই', 'একাত্তরের ডায়েরি', 'একাত্তরের দিনগুলি', 'নিষিদ্ধ লোবান', 'দ্য রেইপ অব বাংলাদেশ', 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি', 'মা', 'নেকড়ে অরণ্য', 'বাংলাদেশ রক্তের ঋণ', 'কারাগারের রোজনামচা', 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'র মতো ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসবিষয়ক এসব বই পড়েছে খুঁজলে সংখ্যা নগণ্যই হবে।

আমার উদ্দেশ্য তরুণ প্রজন্মকে দোষারোপ করা নয়, আসলে তরুণরাই দেশের সম্পদ, সব থেকে বেশি দক্ষ ওরাই। এই দেশ সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখবে তরুণদের চোখ দিয়েই। দেশের যে কোনো দুর্দিনে, প্রয়োজনে এই শ্রেণিই সবার আগে ছুটে আসবে, যার প্রমাণ আমরা ইতিহাস ঘাঁটলেই পাই। ৫২, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭১-এর সব আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্র, তরুণ নেতারাই নেতৃত্বে ছিল। আমার জোর দেওয়ার জায়গা ইতিহাস বিকৃতি রোধ এবং ইতিহাসের সঠিক বোধ ও চর্চা, মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা প্রেরণার ইতিহাসকে নিছক রূপকথার গল্প হওয়া থেকে রোধ, সত্য ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনে কাজ করা। ইতিহাস হারিয়ে গেলে একটা প্রজন্মকে দোষারোপ করে কী হবে, ব্যর্থতার দায় আমাদেরই নিতে হবে। কারণ, আমরাই হয়তো তাদের সঠিক শিক্ষা দিতে পারছি না। 

আমি প্রচণ্ড ব্যথিত হই যখন একজন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস নিয়ে প্রশ্ন করে সঠিক উত্তর না পাই বরং শুনতে পাই তারা বিজ্ঞান অথবা বাণিজ্যের শিক্ষার্থী এবং ইতিহাস বিষয় তাদের পাঠ্যপুস্তকে ছিল না। তাই তারা এগুলো ভালোভাবে জানে না। তখন প্রশ্ন জাগে, আসলেই কজন সত্যিকার অর্থে আমাদের ইতিহাস জানে, বিশ্বের মানচিত্রে ও বিশ্ব ইতিহাসে এ দেশটা কীভাবে নিজের জায়গা করে নিল, এর পেছনে কারা আছে, তারা কেন স্মরণীয় সেটা কি জানে? একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, জাতীয় উৎসব সবাই পালন করছে কিন্তু কেন এই দিনগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেটা জানছে না। আমি হতবিহ্বল হয়ে যাই যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একজন শিক্ষার্থী একটা লাইন বলতে পারছে না, যখন বিজয় দিবস আর স্বাধীনতা দিবস উল্টে ফেলছে, যখন বঙ্গবন্ধু, জাতীয় নেতাদের অবদান বলতে পারছে না, কয়েকজন বীরশ্রেষ্ঠ, ভাষাশহীদের নাম বলতে পারছে না! কারণ, ইতিহাস তাদের অধ্যয়নভুক্ত ছিল না। এসব অভিজ্ঞতা আমার মধ্যে ভাবনার উদ্রেক করে এবং আমি প্রচণ্ডভাবে অনুভব করি ইতিহাসের সামগ্রিক চর্চা ও জ্ঞান কতটা প্রয়োজন। এই দেশের মাটির ওপর ভর করে হাঁটতে শিখেছি, আলো, বাতাসে বেঁচে আছি, দেশ জন্মের ইতিহাস ভাবনায় একপ্রকার ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে, তখন ভাবি দেশপ্রেম আসলে কী? দেশের কাছ থেকে কতটুকু পেয়েছি, পাচ্ছি আর কতটুকু নিচ্ছি, বিনিময়ে কতটুকু দিতে পারছি! মুখে মুখে দেশকে ভালোবেসে, দেশপ্রেম উপস্থাপন করে আমরা নিজেদের প্রচার প্রসার করি কিন্তু আসলেই অন্তর থেকে কতটুকু ধারণ করি, লালন করি, সেটা ভাববার বিষয়। গায়ে লাল সবুজ পাঞ্জাবি, টি-শার্ট বা বাংলা বর্ণমালা সংবলিত চাদর জড়ালেই দেশভক্তি বা দেশপ্রেম হয়ে যায় না। ওই লাল সবুজ রঙের পতাকা আমাদের করে পেতে কতশত প্রাণ ও স্বপ্নের বলিদান দিতে হয়েছে, সেই জ্ঞানটুকু রাখাও অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের দেশ অনেক সমস্যায় জর্জরিত; মানুষের অভিযোগ, অনুযোগের শেষ নেই। আজ থেকে ৫০ বছর আগে জন্ম নেওয়া নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রটি কিন্তু বিচক্ষণ নেতৃত্ব পেয়ে ভগ্ন অবস্থা থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল ঠিকই, পরবর্তী সময়ে অপশক্তির রোষানলে পড়ে দেশে ক্রান্তিকাল চলছিল কিছুদিন, এখন কিন্তু আবার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে। দেশে এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড চলে, বহু বছর পর এ সময় আসে একটা দেশে। আমাদের দেশে ২০৫০ সাল পর্যন্ত তরুণদের পরিমাণ সর্বাধিক থাকবে আর বিপুল সংখ্যক এ যুব সমাজকে যদি ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়, তাদের মেধা-মনন কাজে লাগানো যায়, দেশের বাহ্যিক সৌন্দর্য বদলে যেতে খুব বেশি দেরি লাগবে না। এজন্য সবাইকে কাজ করা উচিত, যুবশক্তি যেন অপচয় না হয়, হতাশায় নিমজ্জিত হলে দেশও হতাশায় নিমগ্ন হয়ে যাবে। উচ্চ শিক্ষিত হয়ে অনেকেই নানামাত্রিক হতাশা ও দেশের প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ, অনুযোগ থেকে বিদেশে পাড়ি জমানোকেই প্রাধান্য দিচ্ছে আজকাল। যা খেয়ে মানুষ দিনাতিপাত করে সেই খাদ্যে ভেজাল থেকে শুরু করে বেকারত্ব, দুর্নীতিসহ নানাবিধ সমস্যায় আজ দেশ আক্রান্ত। মুক্তিযোদ্ধারা এসব সমস্যায় জর্জরিত হয়ে নুয়ে পড়া দেশের জন্ম দিতে এত ত্যাগ করেননি, তাদের অকুতোভয় সাহস ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাইকে নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে মনোনিবেশ করা উচিত। দেশের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস সবার মাঝে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করতে পারলে এসব অন্যায় থেকে মানুষ নিজেদের দূরে রাখতে পারবে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশ মেধাবীদের দূরদর্শিতা ও দক্ষ নেতৃত্ব হারাবে। ছোট এই দেশটি অনেক চড়াই উতরাই পার করে বর্তমানে এসে পৌঁছেছে; অসাধু, অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের জন্য যোগ্য মানুষগুলো যেন দেশের প্রতি অনুযোগ প্রকাশ করে দেশবিমুখ না হয়ে যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখাও জরুরি। সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে দেশ আমাদের কী দিচ্ছে, সেটা গুরুত্ব না দিয়ে আমরা দেশকে কতটা দিতে পারছি, সেটাই ভাবা মুখ্য বিষয় হবে। স্বাধীনতা ও বিজয়ের প্রেরণায় উজ্জীবিত তরুণরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। কারণ, তারা বিজয়ের পেছনের ত্যাগ তিতিক্ষা স্মরণ করবে। কোনো অন্যায় করতে গেলে একবার হলেও ভাববে যে দেশের জন্য এত মানুষ জীবন দিয়েছিল সেই দেশের আলো বাতাসে বেড়ে উঠে দেশের অকল্যাণে কাজ করা ঘোরতর অপরাধ। যারা অন্যায়, অনাচার, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, বিনা দ্বিধায় নানাবিধ অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত, তাদের মনে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়ের চেতনা অনুপস্থিত।

প্রসব বেদনায় কাতর একজন মা-ই কেবল বুঝতে পারেন সন্তান ভূমিষ্ঠ করতে কতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। তেমনি দেশমাতৃকাও জন্মলগ্নের অনেক যাতনা, লাঞ্ছনা সহ্য করে এ পর্যন্ত এসে দাঁড়িয়েছে। সবকিছুর প্রকৃত ব্যবহার করতে পারলে আমাদের সামনে রয়েছে সম্ভাবনার অফুরন্ত দুয়ার। আশঙ্কার জায়গা এই একটাই- ইতিহাস, সংস্কৃতি ভুলে আধিপত্যবাদী হয়ে থাকা বা যাওয়া গোষ্ঠীকে জ্ঞান, বিবেক, মনন, মগজ দিয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সার্বিক কল্যাণে কাজ করানো। তরুণ সমাজ তাদের শক্তি, মেধা, প্রগতি দেশের কল্যাণে লাগাক- এই প্রত্যাশা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি সবখানে যেন তাদের অবদান, অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়, তাদের সৃজনশীলতায় যেন উদ্ভাসিত ও চিরভাস্বর থাকে আমাদের জন্মলগ্নের ইতিহাস, মহান মানুষদের ত্যাগের ইতিহাস। প্রজন্মান্তরে যেন হারিয়ে না ফেলি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা, অন্য বিচক্ষণ নেতাদের মননশীলতা ও ত্যাগ তিতিক্ষাকে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া আর তৎকালীন ভুক্তভোগী মানুষগুলো পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিলে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার জন্য কোনো প্রত্যক্ষদর্শী আর অবশিষ্ট থাকবে না। তাই দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে তরুণদেরই হাল ধরতে হবে, সংগ্রহ করতে হবে প্রকৃত তথ্য, সত্য ইতিহাস। আমাদের পূর্বপুরুষদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়, এত শহীদের রক্তে গড়া দেশটা যেন অপশক্তির হাতে আর শোষিত না হয়, দেশ গড়ার দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস যেন বিস্মৃতির চাদরে ঢাকা না পড়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর সেই অমর বাণী 'দাবায়ে রাখতে পারবা না' যেন সত্য হয় তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই, বাংলাদেশ যেন বিশ্বের বুকে অদমনীয় হয়েই এগিয়ে যেতে পারে। নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহস বুকে নিয়ে তারুণ্যের স্ম্ফুলিঙ্গ যেন মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ প্রবাহিত হওয়া সব দুর্নীতি, অন্যায় থেকে দেশকে মুক্ত করে এর অগ্রগতিতে কাজ করতে পারে- এটাই হোক বিজয় দিবসের শপথ। প্রতিটি প্রজন্মই যেন বুকে হাত দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারে- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।