ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

রোজায়ও গরুর মাংস মহার্ঘ থাকবে?

অন্যদৃষ্টি

রোজায়ও গরুর মাংস মহার্ঘ থাকবে?

ছবি-সমকাল

ইফতেখারুল ইসলাম

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৪ | ২৩:৫১ | আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৪ | ০৭:১২

মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিশেষত গত দু’বছর যাবৎ অন্যান্য পণ্যের মতো গরুর মাংসও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই এ নিয়ে নতুন করে আক্ষেপ প্রকাশের কোনো কারণ ছিল না, যদি সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমূহূর্তে মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় না নেমে যেত। এর পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকলেও মানুষ বুঝে নিয়েছিল– এটা নির্বাচনী খেলারই একটা অংশ। মানুষের এমন ধারণা আরও পোক্ত হয় যখন নির্বাচনের মাত্র দুই দিন পরই ৫০ টাকা বেড়ে গরুর মাংসের কেজি ৭০০ টাকায় ঠেকে। 

তবে সম্প্রতি শবেবরাতকে কেন্দ্র করে এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৮০০ টাকা। এটা সত্যিই মানুষকে ধাঁধায় ফেলে দিয়েছে। কেউ বলেন, গরুর দাম বেড়েছে। কেউ বলেন, ভারত, মিয়ানমার থেকে গরু আসছে না কিংবা পশুখাদ্যের দাম চড়া, শবেবরাত উপলক্ষে চাহিদা বেশি ইত্যাদি।

সংবাদমাধ্যমের খবর, দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অনেক পণ্যেরই চাহিদা কমে গেছে। গরুর মাংসের পরিণতি তা-ই হতে পারত। কিন্তু মাংস সিন্ডিকেট জানে, শবেবরাতের দিন ৫০ টাকা বাড়িয়ে দিলেও বাঙালি ‘ঋণ করে হলেও ঘি খাবে!’ ফলে তাদের পকেট ভরতে কোনো সমস্যা হবে না। তবে প্রশ্ন, নির্বাচনের আগে কেজিপ্রতি যে মাংসের দাম ৬৫০ টাকা; দুই মাসেরও কম সময়ে তা কেজিতে দেড়শ টাকা বেড়ে গেল কেন?

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মোর্তুজা মন্টুর মতে, গত এক সপ্তাহে প্রতিটি গরুর দাম ১৫ হাজার টাকা বেড়েছে। এ কারণে প্রতি কেজি মাংসের দাম দাঁড়িয়েছে ৮০০ টাকায়। তিনি এও বলেন, সমিতি চাইলেই দাম বেঁধে দিতে পারে না। কারণ, কেউ লোকসান দিয়ে বিক্রি করবে না। তবে তারা রোজার মাসে ৭৫০ টাকার মধ্যে দর সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন, কারা দর বেঁধে দেবে কিংবা কারা মাংসের বাজার পরিচালনায় থাকবে?

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে দাবি করা হয়েছে, যৌক্তিক দর নির্ধারণ করার এখতিয়ার তাদের নয়, বরং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এমদাদুল হক তালুকদার বলেছেন, দাম নির্ধারণের দায়িত্ব শুধু তাদের নয়। যদিও তিনি রমজান মাসে ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রির আশ্বাস দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ধরনের বিরোধাত্মক বক্তব্য দেওয়ার মানে কী? ঘুরেফিরে এই অব্যবস্থাপনার চাপ এসে পড়ে জনগণের ওপর। 

কয়েক বছর ধরে পুরো বাজার ব্যবস্থায় অভাবনীয় অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। মুক্তবাজারেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ বলে কিছু থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে বাজার ব্যবস্থাপনা বলতে কিছুই নেই। ফলে দ্রব্যমূল্য হয়ে পড়েছে কতিপয় ব্যবসায়ীর ইচ্ছাধীন। সাধারণ মানুষ তাদের কবলে পড়ে অসহায়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফলে সরকারের অব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে সাপ্লাই চেইনের প্রতিটি ধাপে ইচ্ছামতো দ্রব্যমূল্য নেওয়া হচ্ছে। দেশের মানুষের সামগ্রিক জীবনযাপনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে রমজানে মানুষকে একটু স্বস্তি দেওয়ার সত্যিই কোনো ইচ্ছা যদি সরকারের থাকে, তাহলে অবশ্যই মাংসের যৌক্তিক দর বেঁধে দিতে হবে এবং তা কার্যকরে যথাযথ তদারকি চালাতে হবে। 

ইফতেখারুল ইসলাম: সহ সম্পাদক, সমকাল

আরও পড়ুন

×