বর্তমান সময়ে 'সাইবার বুলিং' একটি পরিচিত শব্দ। এ সমাজে অনেকে এর শিকারও হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি কিনা। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে হয়রানি করা হয়, তাকেই সাইবার বুলিং বলে। ডিজিটাল দুনিয়ায় অনেকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। বাংলাদেশেও তথ্যপ্রযুক্তি উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার বুলিং বেড়ে চলেছে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম, গেমিং সফটওয়্যার- এসব জায়গায় ঘটতে পারে। বর্তমানে আমাদের দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফেসবুক, মেসেঞ্জারে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয় কিশোর-কিশোরীরা। এসব জায়গায় কিছু মানুষকে টার্গেট করে তারা খারাপ আচরণ করে বা বিব্রতকর কথা বলে। এমনকি এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কিশোরীদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেমের প্রস্তাব, আবার প্রেমে রাজি না হলে হুমকিও দিয়ে থাকে অনেক সময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া বা খারাপ ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। অনেক সময় ফেসবুক মেসেজিং ব্যবহার করে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা বা হুমকি দেওয়া হয়। আবার দেখা যায়, মেয়েদের নামে আইডি খুলে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে। অনেক সময় মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে বিশেষ কারও ভাবমূর্তি  ক্ষুণ্ণের উদ্দেশ্যে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। ফেসবুক, মেসেঞ্জারের পাশাপাশি অনলাইন ওয়েবসাইট ব্যবহার করেও সাইবার বুলিং করা হয়।
বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহার করেও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় অনেক সময় হুমকিও দেওয়া হয় ভার্চুয়াল জগৎ ব্যবহার করে। এ ছাড়া বিভিন্ন পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট এবং আপত্তিকর কমেন্ট করেও হেয় করা হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে কেউ যেন মানহানিকর কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।
বাগেরহাট