দেশে ২০০৫ সালের পর যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত, তার বেশিরভাগই মানসম্মত শিক্ষা কতটা পূরণ করতে পারছে– সে প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নামে বিশ্বমানের হলেও মানে কতটা বিশ্বমানের? যেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পর্যাপ্ত শিক্ষক, উন্নত শ্রেণিকক্ষ, গবেষণার জন্য ল্যাব, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই, শিক্ষার্থীদের মাঠ পর্যায়ে কাজের জন্য অনুদান ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় তা অপর্যাপ্ত। এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশ্বমান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পাই, অনেক প্রতিষ্ঠানের কিছু বিভাগে ৪-৫টি ব্যাচের শিক্ষাদান কার্যক্রম একটি-দুটি শ্রেণিকক্ষের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত। শ্রেণিকক্ষ সংকটের মতো ল্যাব সংকটও বিদ্যমান। অন্য বিভাগের ল্যাবে ধরনা দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হয়। আবার যেসব বিভাগের ল্যাব রয়েছে, সেখানে ল্যাবের কার্যক্রম পরিচালনার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের অভাব।

অন্যদিকে শিক্ষক সংকটও প্রধান সমস্যা। খোঁজ নিলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে চার-পাঁচজন শিক্ষক দিয়েই বিভাগুলোর চার-পাঁচটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে কয়েকজন আবার থাকেন শিক্ষা ছুটিতে। একেকটি ব্যাচে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী ধরলেও পাঁচটি ব্যাচে ২৫০ জনের মতো শিক্ষার্থীকে এই গুটিকয়েক শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের বিভাগ হতে হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের মানদণ্ড ধরা হয় ১:২০। অর্থাৎ প্রতি ১ জন শিক্ষকের জন্য ২০ জন শিক্ষার্থী থাকলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্বমানের বিভাগ হিসেবে পরিগণিত হবে।

আমাদের দেশে একের পর এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও, প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব চাহিদা পূরণ ও শিক্ষার বিশ্বমান নিশ্চিত করতে পারছে না। তাহলে কেন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদা পূরণ না করেই একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি করছি? এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কতটা উন্নত শিক্ষা পাওয়া যাচ্ছে? সর্বোপরি প্রশ্ন, এতে জাতির বোঝা লাঘব হচ্ছে, নাকি বৃদ্ধি পাচ্ছে? প্রশ্নগুলো সরকার ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের জন্য তোলা রইল। বিশ্বমানের নাম দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানগত দিক দিয়ে কতটুকু বিশ্বমান নিশ্চিত করতে পেরেছে, সেদিকে নীতিনির্ধারকরা দৃষ্টি দিন এবং উচ্চশিক্ষার বিশ্বমান নিশ্চিত করুন। 

শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়