ঢাকা বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

অর্থবহ নির্বাচন ও অর্থনীতির কথা ভাবুন

অর্থবহ নির্বাচন ও অর্থনীতির কথা ভাবুন

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনাইয়া আসিবে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যে উত্তপ্ত হইয়া উঠিবে– উহা অনুমিতই ছিল। উপরন্তু যুক্ত হইতেছে ‘ফরেন ফ্যাক্টর’। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানাইয়াছে, নির্বাচন ঘিরিয়া সংঘাতের শঙ্কা এবং নির্বাচন-সহায়ক পরিবেশ লইয়া প্রশ্ন থাকায় তাহারা পূর্ণ পর্যবেক্ষক দল পাঠাইতে পারিবে না।

এইদিকে চলতি বৎসরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য যেই নূতন ভিসা নীতির ঘোষণা দিয়াছিল, গত শুক্রবার উহার প্রয়োগ সূচিত হইবার কথাও জানাইয়াছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কই শুধু নহে; বাণিজ্যিক, উচ্চশিক্ষা, অভিবাসনগত ঘনিষ্ঠতা যেহেতু প্রবল; ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘোষণা দেশব্যাপী বিপুল তরঙ্গ তুলিয়াছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল যদিও ইহাতে পরস্পরের ‘অসুবিধা’ হইবার কথা তারস্বরে বলিতেছে; কমবেশি উভয়ের মধ্যেই শঙ্কার আশঙ্কা ফুৎকারে উড়াইয়া দেওয়া যাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক একজন রাষ্ট্রদূত যদিও নূতন মার্কিন ভিসা নীতি লইয়া জনসাধারণের চিন্তা বা শঙ্কার কারণ না থাকিবার কথা বলিয়াছেন; আমরা তাঁহার সহিত সবিনয় দ্বিমত পোষণ করি। সাধারণ মানুষ দল বাঁধিয়া যুক্তরাষ্ট্রে যাইবে না সত্য; কিন্তু ইহার কারণে যেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ছায়া ঘনাইয়া আসিতেছে, উহা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সকলকেই স্পর্শ করিবে। আর অনাগত সেই পরিস্থিতিতে জনসাধারণই কি সর্বাধিক দুর্ভোগে পড়িবে না? বস্তুত অতীতে অনেকবার রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং উহার ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ নাগরিকেরই জীবিকা, এমনকি জীবনহানিও ঘটিতে দেখিয়াছি।

কিন্তু তৎকালীন অর্থনৈতিক সামর্থ্য আর অদ্যকার সামর্থ্যহীনতা এক নয়। রাজনীতির সংকট এই প্রকারে জাতীয় অর্থনীতিকে কবজা করিলে ভয়াবহ সংকট দেখা দিবে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নটিও কি উপেক্ষা করা যাইবে? যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া লইয়া উদ্বেগ প্রকাশ করিতেছে, তখন সাধারণ মানুষ অবাধে ও সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ লইয়া শঙ্কিত না হইয়া পারিবে?

আমরা মনে করি, একটি অর্থবহ নির্বাচন রাজনৈতিক অচলাবস্থা দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও কাটিয়া উঠিতে সহায়ক হইবে। এই সরল সত্য সর্বাগ্রে বুঝিতে হইবে রাজনৈতিক দলগুলিকেই। ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের স্মরণে রাখিতে হইবে, বাংলাদেশের মানুষ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ করিয়াছিল প্রাথমিকভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করিবার জন্যই।

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে বারংবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হইয়াছে। উহার পুনরাবৃত্তি কাহারও জন্যই কল্যাণকর হইবে না। গত দেড় দশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির যেই ধারা অব্যাহত রহিয়াছে, উহাকে টেকসই করিতে পারে শুধু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই।

অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করিতে পারিলে শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নহে, বহির্বিশ্বেও রাজনীতিকগণের অবস্থান নিশ্চয় শক্তিশালী হইবে।

আরও পড়ুন