ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন জরুরি

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন জরুরি

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য বৃদ্ধির যে সংবাদ মঙ্গলবার সমকালে প্রকাশ পাইয়াছে, উহা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। প্রতিবেদন অনুসারে, প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও পুলিশের ন্যায় কতিপয় ক্যাডারে পদ না থাকিলেও প্রতি বছর পদোন্নতি হয়, যাহা অন্যান্য ক্যাডারে নাই। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশেও প্রতিকার মিলে না। যেমন ২০১৯ সালের মে মাসে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট দুই মাসের মধ্যে গণপূর্ত ও সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীগণের পদোন্নতি প্রদানের নির্দেশ দেন, যাহা আপিল বিভাগ এবং রিভিউ আবেদনেও বহাল থাকে। কিন্তু অদ্যাবধি বিষয়টি ঝুলিয়া আছে বা ঝুলাইয়া রাখা হইয়াছে। সুযোগ-সুবিধায়ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট। একই গ্রেডের চাকুরি হইলেও জেলা প্রশাসকের তুলনায় নির্বাহী প্রকৌশলীরা নগণ্য বিবেচিত হন। উপরন্তু একজন উপসচিব গাড়ি ক্রয়ের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা সুদমুক্ত ঋণ এবং তাহা রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসে ৫০ সহস্র টাকা পাইলেও, সমমানের অনেক ক্যাডারে এমন সুবিধা মিলে না। এহেন পরিস্থিতি শুধু সংবিধানবিরোধী নহে; বঞ্চিত ক্যাডারগণের সেবার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলিবার জন্য যথেষ্ট। এই অবস্থা অব্যাহত থাকিলে একসময় বিশেষায়িত পেশাভিত্তিক ক্যাডারগুলিতে যোগ্য কর্মীর সংকট হইতে পারে। ইতোমধ্যে বিশেষত চিকিৎসা ও প্রকৌশলবিদ্যার মেধাবী শিক্ষার্থীগণের মধ্যে প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হইবার তীব্র আকর্ষণ দৃশ্যমান। প্রতিবেদন অনুসারে, ৩৫ হইতে ৪০তম বিসিএসে প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত ১ হাজার ৯৮০ কর্মকর্তার মধ্যে ৩৮৭ জন ছিলেন প্রকৌশলী ও চিকিৎসক। ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত ৩২১ জনের মধ্যে ১২৯ জন প্রকৌশলী।

খোদ প্রধানমন্ত্রী সমস্যাটি নিরসনে অদ্যাবধি অন্তত দুইবার নির্দেশনা দিয়াছেন। আবার ইহাও সত্য, উক্ত নির্দেশনা উপেক্ষার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে কোনো জবাবদিহি করিতে হয় নাই। প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, ‘নির্বাচন ও রাজনীতিতে’ প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের কর্মীদিগের যদ্রূপ চাহিদা, তদ্রূপ অন্যান্য ক্যাডারে নাই বলিয়াই তাহারা এহেন বঞ্চনার শিকার। সমস্যাটি দশকের পর দশক তাজা থাকিবার কারণ এখানেই নিহিত। এই কারণেই আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রাখিয়া প্রয়োজনীয় পদ না থাকিলেও প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন স্তরে পদোন্নতির এক প্রকার মহোৎসব চলিতেছে বলিয়া অভিযোগ উঠিয়াছে। এমনও অভিযোগ আছে, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন ও পুলিশে শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের চাহিদামাফিক বদলি ও পদায়ন চলিতেছে।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হইবার স্বার্থে ক্ষমতাসীনদের বিশেষ বিশেষ ক্যাডারের কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধাদানের এই রাজনীতি একদিকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করিতেছে, অপরদিকে উহা উন্নত দেশসমূহের কাতারভুক্ত হইবার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ প্রশাসন গড়িয়া তুলিবার প্রক্রিয়াকেও দুর্বল করিতেছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন জরুরি হইয়া পড়িয়াছে।

আরও পড়ুন