ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

অন্যদৃষ্টি

উন্নয়নের সঙ্গে নৈতিকতা

উন্নয়নের সঙ্গে নৈতিকতা

প্রতীকী ছবি

রহমান মৃধা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ২৩:৫৪

আড়াই দশক আগে আমি আমার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিং ভ্রমণ করি। ওই সময় চীনের প্রাচীর দেখা ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এত বছর পর সেই ঘটনা হঠাৎ আমার ভাবনার জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। চীনের প্রাচীর নির্মাণ ছিল এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই প্রাচীর নির্মাণের উদাহরণ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রাচীন যুগে চীন জাতি যখন শান্তিতে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিল, তখন তারা গ্রেট ওয়াল নির্মাণ করল। চীন জাতি ভেবেছিল, এর উচ্চতার জন্য কেউ টপকে তাদের আক্রমণ করতে পারবে না। কিন্তু এটি নির্মাণের প্রথম একশ বছরের মধ্যেই চীন জাতি তিনবার আক্রান্ত হয়। আশ্চর্যের বিষয়, কোনোবারই আক্রমণকারীদের দেয়াল টপকানো বা ভাঙার প্রয়োজন হয়নি। কারণ প্রতিবারই আক্রমণকারীরা দেয়াল পাহারারত রক্ষীদের উৎকোচ দিয়ে সামনের তোরণ দিয়ে ঢুকে পড়ে। চীন জাতি অনেক পরিশ্রম করে মজবুত দেয়াল তৈরি করেছিল। কিন্তু তারা দেয়াল পাহারা দেওয়া রক্ষীদের চরিত্র মজবুত করতে কোনো পরিশ্রমই করেনি।

একইভাবে আমরা বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু আমাদের চরিত্র যদি ভালো না হয়, তবে এই স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। অতীতে এমনটি কিন্তু হয়েছে। যেমন– কোনো জাতিকে পদানত করতে চাইলে তার পারিবারিক গঠন আগে ধ্বংস করো। পারিবারিক গঠন ধ্বংস করতে হলে সংসারে মায়ের ভূমিকাকে খাটো করে দেখাও, যাতে সে গৃহবধূ পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করে। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দাও। এটা করতে হলে শিক্ষককে প্রাধান্য দিও না। সমাজে তার অবস্থান নিচু করে দেখাও, যাতে তার ছাত্ররাই তাকে উপহাস করে। তরুণ সমাজ যেন অনুসরণ করার মতো কোনো রোল মডেল না পায় এবং তারা যেন তাদের জ্ঞানীদের নানাভাবে অপমান করে। রোল মডেলদের নামে অসংখ্য মিথ্যা কুৎসা রটাও, যাতে তরুণ সমাজ তাদের অনুসরণ করতে দ্বিধা বোধ করে।

মানুষ মানুষকে অমানুষের দিকে যেতে বাধ্য করতে পারে, যখন তারা অমানবিক গুণাবলি বা আচরণ অনুসরণ করে।
মূলকথা, মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ এবং মানবিক আচরণের বিপরীতে যে বিপর্যস্ততা বা অন্যান্য অমানবিক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ পায়, এটি ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক আলোচনা এবং গবেষণা করার জন্য একটি দৃষ্টিকোণ হতে পারে। এই বিপর্যস্ততা ও অন্যান্য অমানবিক ব্যক্তিত্বের পরিচিতি এবং বোধগম্যতা ব্যক্তিদের মানবিক বৈচিত্র্য ও সহনশীলতা বিকাশে সাহায্য করতে পারে। সহজে বললে, মানুষের মধ্যে এই প্রকার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যেতে পারে সামাজিক ও ব্যক্তিগত উন্নতি এবং সাহসের মধ্যে উন্নতি করতে পারলে।

অন্যদিকে, মানবিক গুণাবলি যেমন ন্যায্যতা, সত্যবাদিতা, সহিষ্ণুতা, সহানুভূতি ও সহযোগিতা মানুষের মধ্যে বৃদ্ধি করে এবং একটি সমবেত সমাজ গঠনে সাহায্য করে। এই সম্পর্কে বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে আমি বিশ্বাস করি যে, এই প্রযুক্তি ও উন্নতি আমাদের সমাজ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
এ যুগে আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন কিছুও করছি, যা অতীতের তুলনায় উন্নতি এবং প্রগতি নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস করি। যেমন– প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিবিদ্যা; জনসংখ্যা এবং জনস্বাস্থ্য; পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য; উন্নত শিক্ষা; ব্যবসায় ও পরিবার পরিচালনা।
প্রযুক্তির সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবতার সমন্বয়ে উন্নয়ন টেকসই হতে পারে।

রহমান মৃধা: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

আরও পড়ুন

×