সংসদীয় কমিটিকে মন্ত্রণালয়

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে বড় বাধা এমপিরা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে সবচেয়ে বড় বাধা স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কারণে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য হোক বা অন্য কোনো রাজনৈতিক চাপ হোক তা দেখলে চলবে না। অবশ্যই অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন প্রসঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিদের বিরোধিতা ও অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এ অভিযোগ তোলেন।

বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কমিটি বলেছে, এমপি বা অন্য যে কোনো রাজনৈতিক চাপ হোক- অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।

বৈঠকের কার্যপত্রে জানা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন ছয়টি গ্যাস কোম্পানির মধ্যে চারটি কোম্পানি এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ৯৩৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এ সময় ৩০৭ কিলোমিটার গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। গ্যাস লাইনের পুরোটাই ছিল আবাসিক খাতের। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগেরও প্রায় সিংহভাগ আবাসিক খাতের। আবাসিকের ৯৭ হাজার ৮৩টি চুলা এ সময় বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাকিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক খাতের ২০২টি, শিল্প খাতের ৮৭টি, সিএনজি ২২টি এবং ক্যাপটিভ সংযোগ ৪১টি।

এদিকে বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে অবৈধ গ্যাস এবং বিদ্যুতের সংযোগ চিহ্নিত করতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে গ্যাসের সিস্টেম লসের পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনার পাশাপাশি এর স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটি সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে গ্যাস সরবরাহে সিস্টেম লস পাঁচ ভাগের একটু বেশি। এই সিস্টেম লসের পুরোটাই আবাসিক সংযোগসহ বেসরকারি খাতের ৪০ ভাগে। সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহূত বাকি ৬০ শতাংশে কোনো সিস্টেম লস নেই। এসব বিষয় মাথায় রেখে সিস্টেম লসের প্রকৃত হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।

এদিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে ২০২০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৩ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ এবং ৯৬ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া গভীর-অগভীর সমুদ্রসহ দেশে তেল, গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য খনিজসম্পদের অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগগ্রতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় কমিটি দেশের সব স্থানে সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অফশোর গ্যাস আহরণে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। সারাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও সুপারিশ করা হয়।

কমিটি সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন কমিটি সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সদস্য আলী আজগার, নূরুল ইসলাম তালুকদার, আছলাম হোসেন সওদাগর, খালেদা খানম ও বেগম নার্গিস রহমান।