জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের নামের আগে সেনাপদবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু। বুধবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আনা সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এ দাবি তোলেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে ১৪৭ বিধিতে সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধের প্রসঙ্গ টেনে আবদুল মতিন খসরু বলেন, 'কত নিকৃষ্ট মানুষ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করল। সেই খুনির বিচার করা যাবে না, ইনডেমনিটি দিল। কোথাও এই আইন আছে? জিয়াউর রহমান খুনিদের রাষ্ট্রদূত বানিয়েছেন। খালেদা জিয়া জানেন না রশীদ খুনি? রাসেলের খুনিকে তিনি চেনেন না? খুনিকে বিরোধী দলের চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। খালেদা জিয়া অপরাধী। তারা ডকট্রিন অব ইমপিউনিটি চালু করেছিলেন। জিয়া ও খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে নিয়মিত যেতেন। বঙ্গবন্ধু একটু তাকালে তারা খুশি হয়ে যেতেন।'

তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বুক ফুলিয়ে হাঁটত। আর জীবনে দেশে আসতে পারবে না। তাদের নামের সঙ্গে কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার থাকা উচিত নয়। কারণ সেনাবাহিনী আমাদের গৌরব।'

তিনি কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, 'বঙ্গবন্ধু কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি যদি '৭০-এর নির্বাচনে না যেতেন, তাহলে ইতিহাস এ রকম হতো না। এই একটা সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। তার বিচক্ষণ দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বঙ্গবন্ধু নেই, তার আদর্শ-চেতনা সেটা বাস্তবায়ন করছেন তার কন্যা শেখ হাসিনা।'

বঙ্গবন্ধু বেসরকারি খাতের পক্ষে ছিলেন: আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান বলেন, 'অনেকে মনে করেন বঙ্গবন্ধু বেসরকারি খাতের পক্ষে ছিলেন না। এটি সত্য নয়। স্বাধীনতার পর ফরেন এক্সচেঞ্জ ছিল না। ফলে বাণিজ্য করতে হতো বার্টার সিস্টেমে। কিছু পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি হতো। যখন বেক্সিমকো শুরু করলাম আমাদের প্রস্তাবে রাজি হলেন। তবে শর্ত দিলেন ৬০ শতাংশ প্রচলিত পণ্য রপ্তানি করতে পারব। বাকি ৪০ শতাংশ অপ্রচলিত পণ্য। পাট-চামড়া আর চিংড়ি এগুলো ছিল অপ্রচলিত পণ্য। তখন চা-কে অপ্রচলিত পণ্য হিসেবে রপ্তানিপণ্যে প্রতিষ্ঠিত করলেন বঙ্গবন্ধু। তখন থেকেই রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্ব বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন। সেটা বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি খাতকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন।'

সালমান এফ রহমান বলেন, 'আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বঙ্গবন্ধুর মতো বেসরকারি খাতের ওপর বিশ্বাস রাখেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এতদিন সোনার বাংলা গড়ে তুলতেন। আমাদের সৌভাগ্য, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে হাল ধরেছেন তিনি, দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করবেন।'

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসের অংশ। এ ভাষণে ২৬টি বাক্য রয়েছে। যার প্রত্যেকটি বাক্য নিয়ে গবেষণা করা যায়।' তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, 'অনেকে বলে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষার জন্য কিছু করেননি। তাদের বলি ইতিহাস পড়েন। ২১ ফেব্রুয়ারি যখন রফিক-সালামদের হত্যা করা হয়, বঙ্গবন্ধু তখন ফরিদপুর জেলে অনশন করছেন। এতে বঙ্গবন্ধুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাকে অনশন ভাঙার জন্য বলা হয়। তিনি ভাঙেননি। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা হলো। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ হতো না। কিন্তু ইতিহাসকে চাপা দেওয়া যায় না। জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ, ততদিন বঙ্গবন্ধু। তার শারীরিক মৃত্যু হতে পারে, আদর্শের মৃত্যু হবে না।'

আলোচনায় আরও অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস, মেহের আফরোজ চুমকি, আবদুস সোবহান মিয়া, নজরুল ইসলাম বাবু, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রমুখ।


মন্তব্য করুন