সাংবাদিক মহল বিরাগভাজন হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা সম্পর্কে অসত্য প্রতিবেদন করে বলে সংসদে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। 

বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরে জামালপুর-৫ আসনের সদস্য মোজাফ্‌ফর হোসেনের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী একথা বলেন। মন্ত্রী জানান, সঠিক দলিলাদি যুক্ত করে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করলে ৫-৬ দিবসেই তা নিষ্পন্ন হয়ে থাকে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। মোজাফ্‌ফর আহমেদ তার প্রশ্নে বলেন- তড়িঘড়ি করে জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করতে গিয়ে পিতার নামের স্থলে মায়ের নাম, প্রকৃত নামের স্থানে অন্যজনের নাম, নামের বানান ভুল হচ্ছে। এসব সংশোধনী নিয়ে হয়রানির অন্ত নেই। নির্ভুল জাতীয় পরিচয়পত্র জনগণ যাতে পায় তার সুব্যবস্থা হবে কিনা?

জবাবে আইনমন্ত্রী ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ভোটার তালিকার ডাটবেজ গড়ে তোলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ টেকনিক্যাল জনবল না থাকায় এবং সময়স্বল্পতার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ভুলভ্রান্তি রয়ে যায়। এর অধিকাংশই বানানজনিত ভুল।

জাতিসংঘের ইউএনডিপি পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী ভোটারদের সংগৃহীত ডাটা ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ। জাতীয় পরিচয়পত্রের ওপর আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে এ পর্যন্ত ১৪৪টি সংস্থা নাগরিকদের জাতীয় পরিচিতি নিশ্চিতকরণের জন্য চুক্তি করে এনআইডি সার্ভারের মাধ্যমে এনআইডি যাচাই সেবা গ্রহণ করছে।

মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন পর্যায়ে পরিলক্ষিত ভুলগুলোর বিষয়ে আইন ও বিধি অনুসারে নির্বাচন কমিশন সংশোধনের সুযোগ দিলেও অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে অনেকেই যথাসময়ে সেই সেবা গ্রহণ করেনি। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্রে লিপিবদ্ধ তথ্যাদির ক্ষেত্রে এখনও কিছু ভুল বিদ্যমান। তবে, সংশোধনের জন্য পাওয়া আবেদনগুলোতে চাওয়া দাবি অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ও বাস্তবতা বিবর্জিত। 

ওইসব আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণপত্র/দলিলাদি দাখিলসহ ক্ষেত্রবিশেষ তদন্ত/পুনঃতদন্তের প্রয়োজন পড়ে। এ সকল আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার উদ্ভব ঘটে এবং দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এ কারণে বিশেষ করে সাংবাদিক মহল বিরাগভাজন হয় এবং এ-সংক্রান্ত সেবা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে, যা সম্পূর্ণ সত্য নয়।

আনিসুল হক বলেন, এনআইডির সংশোধন/পরিবর্তনের আবেদন সাধারণভাবে ৩০ কার্যদিবসে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও সঠিক দলিলাদি যুক্ত করে যৌক্তিক সংশোধনের আবেদন করতে ৫-৬ দিবসেই নিষ্পন্ন হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, জন্মতারিখ সংশোধন/পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এনআইডিতে মুদ্রণ ভুল হলে এবং আবেদনকারীর চাওয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম অনুযায়ী সঠিক থাকলে (যত বছরের পার্থক্যই হোক) এবং যাদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সনদ আছে তাদের ক্ষেত্রে ৫-৭ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধন হয়ে থাকে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু কিছু নাগরিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে জন্মতারিখ পরিবর্তন করতে আবেদন করে থাকেন, যা একেবারেই অযৌক্তিক। একই ব্যক্তি নিবন্ধনকালে একটি জন্মতারিখ দেন আবার সংশোধনের জন্য ভিন্ন জন্মতারিখ উল্লিখিত জন্মসনদ/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়/ কারিগরি/ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সনদ জমা দিয়ে জন্মতারিখের পরিবর্তন চান, যা সংশোধনের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি করে এবং ওই সনদে উল্লিখিত বয়সের সঙ্গে ব্যক্তির বাস্তবিক বয়সের মিল থাকে না।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন- চাকরি, বেতন ও ভাতাদি আদেশ ২০১৫ অনুযায়ী সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ/বেতন প্রাপ্তিতে এনআইডির তথ্যাদির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কতিপয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় পরিচয়পত্র আমলে না নিয়ে শুধু জন্মসনদের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করছে।

বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন আবেদন ঘরে বসে অনলাইনে করার পাশাপাশি ঘরে বসেই প্রিন্ট দিয়ে পরিচয়পত্র গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।

এম আবদুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর বর্তমানে দেশে খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ১৫৮ জন। আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মন্তব্য করুন